যশোরের দু’টি স্থানে অগ্নিসংযোগ, তাণ্ডব ও লুটপাট বিএনপি ও জামায়াত শিবিরের ৩শ’ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা

fire
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে পৃথক দু’টিস্থানে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী তান্ডব, মারপিট অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রায় দু’কোটি টাকা ক্ষতি পূরণের দাবিতে মামলা হয়েছে। যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের দরগাহ ফিলিং স্টেশনে তান্ডবের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার হাসান মোহাম্মদ রেজা ২০০/২৫০ জন ও রূপদিয়ায় বিআরটিসি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪০/৫০ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় পৃথক দুটি মামলা করেছেন।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবারে রাত ১০ টা ১ মিনিটে যুদ্ধাপরাধ মামলায় কসাই কাদের মোল্যাকে ফাঁসি দেয়ার পরে সারাদেশে তান্ডব চালায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডাররা। এদিন রাত পৌনে ১২টার দিকে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের একদল ক্যাডার যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের বড় মেঘলা দরগাহ ফিলিং স্টেশনে প্রবেশ করে ধারালো ও আগ্নেয়াস্ত্র এবং লাঠি নিয়ে ভাংচুর শুরু করে। তারা ৩ লাখ টাকা মূল্যের ৬০টি বিদেশি লাইট ও ৮৫ লাখ টাকার দু’টি ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেয়। এছাড়াও ১০ লাখ টাকা দামের দু’টি ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ও ৩০ লাখ টাকার ৫টি তেল ডেলিভারী যন্ত্র ভাংচুর করে। লুট করে ৩ লাখ টাকার লুব্রিকেন্ট। ফিলিং স্টেশনের অফিসে ভাংচুর করে আরো ২০ লাখ টাকার ক্ষতিসহ মোট ১ কোটি ৫১ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। এ সময় ঠেকাতে গেলে তারা ৩ কর্মচারিকে বেধড়ক মারপিট করে। এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার হাসান মোহাম্মদ রেজা বাদি হয়ে গতকাল ২০০/২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। অপর দিকে শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার যশোর-খুলনা মহাসড়কের রুপদিয়ায় একটি বিএরটিসির বাসে অগ্নিসংযোগ করে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা। খবর পেয়ে বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে কিন্তু তার আগেই ভাংচুর ও আগুনে পুড়ে গাড়িটির প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এ ছাড়াও তারা আরো ৫টি গাড়ি ভাংচুর করে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মাইনুল আহসান কবির বাদি হয়ে ২২ জনের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪০/৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তারা হলো, সদর উপজেলার কচুয়া গ্রামের খান পাড়ার আলম খান, রুপদিয়া খান পাড়ার সাদ্দাম, রাসেল, হাসান, লাল্টু, আলী খান, শরিফুল ইসলাম, আনছার খান, নরেন্দ্রপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন, একই গ্রামের মেঠোপাড়ার আলমগীর, কুদ্দুস, মুনসেফপুর গ্রামের আনছার বেড়ে, মথুরাপুর গ্রামের টিপু, চাউলিয়া গ্রামের শিমুল, মিন্টু মোল্যা, রিপন পশারী, সাইফুল ইসলাম, সবুর, ফারুক বিশ্বাস, বাবুল বিশ্বাস, ফারুক গাজি ও শাখারীগাতি গ্রামের তরিকুল ইসলাম। এ ছাড়াও নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, সাবেক চেয়ারম্যান সাবেক ওলিয়ার রহমান এবং সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল মালেক নাশকতার নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

শেয়ার