বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন ১৫১ জন

perliament

বাংলানিউজ ॥
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন ১৫১ জন প্রার্থী। শনিবার রাত আটটা পর্যন্ত এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ১২৮ জন, জাতীয় পার্টির (এরশাদ) ১৭ জন, জেপি’র (মঞ্জু) ১ জন, জাসদ’র ৩ জন এবং ওয়ার্কার্স পার্টির ২ জন প্রার্থী রয়েছেন।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় শুক্রবার বিকেল ৫টার পর থেকেই প্রার্থী-তালিকা চূড়ান্ত করতে শুরু করে নির্বাচন কমিশন। যেসব আসনে একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী রয়েছেন তাদেরকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবে কমিশন।
কমিশন কর্মকর্তারা জানান, সারাদেশ থেকে তথ্য আসছে। তার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত হচ্ছে প্রার্থী তালিকা।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন: নির্বাচনকালীন সরকারের ভূমিমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক, মহাজোটের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশারফ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজি উদ্দীন আহমেদ রাজু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম), আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, শেখ হেলাল উদ্দীন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ফজলে নূর তাপস, আ হ ম মোস্তফা কামাল, নুর-ই-আলম চৌধুরী লিটন, আফম বাহাউদ্দীন (নাছিম), কাজী কেরামত আলী, শামীম ওসমান, নজরুল ইসলাম বাবু, এইচ এন আশিকুর রহমান, নসরুল হামিদ বিপু, শেখ আফিল উদ্দীন, এনামুল হক, দলের উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম, সাভারের ডা. এনামুর রহমান, বেঙ্গল গ্রুপ ও আরটিভির চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম প্রমুখ।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহারের পরদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টার মধ্যে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক দেওয়া হবে। বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তার এখতিয়ার।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় পার হওয়ার পর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ মেনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিদের নাম গণবিজ্ঞপ্তি করার পর তাদের নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
তবে এসব প্রার্থীদের গেজেট ৫ জানুয়ারি ভোটের পর একসঙ্গে প্রকাশ করা হতে পারে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই সময় ১১শ’ ৭ জন মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন ২০টি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ থেকে।
বাছাইয়ের পর ৮৪৭ জনের মনোনয়ন বৈধ হয়। বাতিল হয় ২৬০ জনের। এরপর ৭-৯ ডিসেম্বর পর‌্যন্ত ১৩৮টি আপিল আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার ৪২ জনের আপিল মঞ্জুর করে ইসি।
ওই সময় কয়েকটি একক প্রার্থীর আসনে [সিলেট-১, গাজীপুর-২ ইত্যাদি] আপিল গৃহীত হওয়ায় প্রার্থী সংখ্যা ২ জনের বেশি হয়।
গত নয়টি সংসদ নির্বাচনের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের সংখ্যা। বহুল আলোচিত ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে ৪৯ জন বিএনপির প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

শেয়ার