নীলফামারী ও নোয়াখালীতে বিএনপি জামায়াতের নারকীয় তাণ্ডব॥ নিহত ৬

Nilphamari
সমাজের কথা ডেস্ক॥ নীলফামারী ও নোয়াখালীতে নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছে জামায়াত বিএনপি ক্যাডাররা। এ দু’জেলায় সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন।
নীলফামারীতে আওয়ামী লীগ সাংসদ আসাদুজ্জামান নূরের গাড়ি বহরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে বিএনপি-জামায়াত। এ সময় সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। আর যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির পর বিভিন্ন স্থানে জামায়াতি সহিংসতার মধ্যে নোয়াখালীতে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন তিনজন।
নীলফামারীতে আওয়ামী লীগ সাংসদ আসাদুজ্জামান নূরের গাড়ি বহরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে বিএনপি-জামায়াত। এ সময় সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন।
আহত হয়েছেন অন্তত দেড়শ। শনিবার বিকালে সদরের টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জ বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী (৫৫), ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন (২৬) এবং জামায়াত কর্মী আবু বকর সিদ্দিক (৪২)। বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা অন্তত ৫০টি মোটরসাইকেল, ছয়টি জিপ ও তিনটি মাইক্রোবাস জ্বালিয়ে দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের পর শুক্রবার জামায়াত-শিবির রাজগঞ্জ বাজারে ব্যাপক সহিংসতা চালায়। আসাদুজ্জামান নূর ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে সেখানে যাওয়ার সময় ওই হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় আসাদুজ্জামান নূর অক্ষত থাকলেও অন্তত ১৫০-২০০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নিহতদর মধ্যে আবু বকর সিদ্দিকের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন নীলফামারী শহর জামায়াতের আমির আল ফয়সাল আব্দুল লতিফ।
নীলফামারী সদর সার্কেল এএসপি শফিউল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বিকাল ৪টার দিকে জিপ, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে আসাদুজ্জামান ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা রামগঞ্জ বাজারে যান।
এ সময় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীরা দেশি অস্ত্র নিয়ে গাড়ি বহরে হামলা চালালে দুপক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। তারা অন্তত ৫০টি মোটরসাইকেল, ছয়টি জিপ ও তিনটি মাইক্রোবাস জ্বালিয়ে দিয়েছে বলেও জানান শফিউল।
সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস সেল ছুড়েছে।
অপরদিকে, যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির পর বিভিন্ন স্থানে জামায়াতি সহিংসতার মধ্যে নোয়াখালীতে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন তিনজন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটে শনিবার বিকালের এই সংঘর্ষে তিনজন নিহতের খবর নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান।
এরা হলেন- মতিউর রহমান সজীব, সাইফুল ইসলাম ও রাসেল। তিনজনকেই নিজেদের কর্মী বলে দাবি করেছে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির।
পুলিশ সুপার বলেন, বসুরহাটে জামায়াত-শিবির কর্মীরা দোকান-পাট ভাংচুর শুরু করলে পুলিশ যায়। তখন পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হলে জবাবে শতাধিক রাউন্ড গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়।
সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে সময় কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সফিকুল ইসলামসহ ৫ পুলিশ সদস্য রয়েছেন বলে পুলিশ সুপার জানান।
নিহতদের মধ্যে সজিব ও সাইফুলের লাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে বলে জানান ওই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাশিদুল ইসলাম।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষের পর সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পুলিশ সুপার জানান। তখনো তিনি ঘটনাস্থল বসুরহাটেই ছিলেন।
কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে শুক্রবার জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষের সময় এক দোকানি এবং ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষে একজন নিহত হন।
এর একদিন বাদেই যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্বাচনী এলাকা বসুরহাটে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল ৪টার দিকে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা বসুরহাট দক্ষিণ মসজিদ থেকে মিছিল বের করে। মিছিলকারীরা বেশ কয়েকটি হাতবোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে প্রথমে আতঙ্ক ছড়ায়। এরপর শুরু করে ভাংচুর।
জামায়াত-শিবিরকর্মীরা উপজেলা ভূমি অফিস, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার স্টলসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও একটি ট্রাক ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
পরে অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কর্মীরা আগুন নেভায়। উপজেলা সদরে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি বিজিবিও টহলে নেমেছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ফাঁসি কার্যকরের পর রোববার হরতাল ডেকে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় নামে জামায়াতকর্মীরা। পিরোজপুর, যশোর ও সাতক্ষীরায় চারজন নিহত হন।
এছাড়া বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ কার্যালয় এবং ক্ষমতাসীন দলটির নেতাদের বাড়ি ও ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়। শনিবার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পাবনার বাড়িতেও পেট্রোল বোমা হামলা হয়েছে।

শেয়ার