দলবাজিতে মত্ত যশোর চেম্বার নেতারা॥ ব্যবসায়ীদের দুর্দিনে পাশে নেই

jessorechamber
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ব্যবসায়ীদের আশা আকাক্সক্ষার ঠিকানা যশোর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ব্যবসায়ীদের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ালো না। দেশের চলমান রাজনৈতিক সংঘাতময় মুহূর্তে এবং ব্যবসা বাণিজ্যে ধ্বংসের প্রতিবাদে সারাদেশে ‘সাদা পতাকা উত্তোলন’ কর্মসূচি পালিত হলেও যশোরে তা পালন করতে পারেনি চেম্বার অব কমার্স। ব্যবসায়ীদের দুর্দিনে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে ডাকা কর্মসূচি পালন করতে ব্যর্থ হওয়ায় সংগঠনের নেতৃত্বের প্রতি চরম নাখোশ হয়েছেন সাধারণ সদস্যরা।
শিল্প বাণিজ্যের অবকাঠামো ধ্বংসের প্রতিবাদ ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই রোববার সারাদেশে সাদা পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি আহ্বান করে। এফবিসিসিআইয়ের নন্দিত আহ্বানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা স্বতস্ফূর্তভাবে কর্মসূচি পালন করলেও ব্যতিক্রম ছিল যশোর চেম্বার ও কমার্স। তারা যশোরের চলমান রাজনৈতিক কারণে ব্যবসায়ীদের আসা যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা ও নিরাপত্তাজনিত অজুহাতে এ কর্মসূচি পালন করেনি। সংগঠনের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র এফবিসিআিই’র সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে পত্রিকা দপ্তরে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। যশোর চেম্বারের নির্বাহী অফিসার মুরাদ আলী এ বিজ্ঞপ্তি পত্রিকা দপ্তরে পাঠিয়েছেন। ১৪ ডিসেম্বর তারিখ দিয়ে স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে ১৫ ডিসেম্বরের কর্মসূচি পালন করতে না পারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, কর্মসূচি পালন না হওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের অরাজকতা ও নাশকতা অপেক্ষা যশোরে শান্তিপূর্ণ ও সহাবস্থান রয়েছে। আর এই শহরেই তাদের নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে চেম্বার অব কমার্স কর্মসূচি পালন করল না। এর মাধ্যমে চেম্বারের শীর্ষ নেতৃত্বের অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বলেছেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার সংগঠনই হলো চেম্বার অব কমার্স। অথচ রাজনৈতিক সংঘাতের দিনে ব্যবসা বাণিজ্যে যে স্থবিরতা চলছে তাতেও ব্যবসায়ীদের পাশে নেই সংগঠনটি। সংবাদপত্রে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নেতৃবৃন্দ দায় সেরেছে মাত্র। আবার কেউ কেউ বলছেন, ব্যবসায়ীদের নেতা হয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব দলবাজিতে মেতে উঠেছে। তাই তারা দলের শতভাগ কর্মসূচিতে অংশ নিলেও ব্যবসায়ীদের একটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে ভয় পেয়েছেন।

শেয়ার