খুলনায় পুলিশ-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ ॥ পুলিশের ওপর হামলা ভাংচুর অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ২শ’ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

খুলনা ব্যুরো॥ শুক্রবার রাতে খুলনায় পুলিশ ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা সাঈদুর রহমানসহ ৩৫ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক ১৫০/২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করেছে। নিরালা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সার্জেন্ট রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে খুলনা সদর থানায় মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, সরকারি কাজে বাঁধা ও গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে সংঘর্ষে নিহত নাঈম হাওলাদারের নামাজের জানাজা শেষে নিরালা কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেয়ার প্রতিবাদে মহানগরী ছাত্রশিবির শুক্রবার রাতে নগরীর নিরালা মোড়ে মিছিল বের করে। পুলিশ মিছিলে বাঁধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু। একপর্যায়ে শিবির কর্মীরা স্থানীয় ২৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয়, ৮/৯টি মোটর সাইকেল, একটি ট্রাক ও এরিস্টোফার্মা নামের একটি ওষুধ কোম্পানীর কাভার্ডভ্যান আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। এছাড়া ১০/১৫টি দোকানপাট ভাংচুর করে। তারা নিরালা পুলিশ ফাঁড়িতে ১০/১২টি ককটেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে নিরালা পুরাতন বাজারের সামনে আখের রস বিক্রেতা নাঈম হাওলাদার গুলিবিদ্ধ হয়। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নাঈম হাওলাদার নগরীর বাগমারা ব্যাংকার্স লেনের বাসিন্দা আমির হোসেন হাওলাদারের পুত্র। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, নিহত নাঈমের বুকের ডান পাশে গুলি লাগে যা শরীর ভেদ হয়ে বের হয়ে যায়। খুলনা সদর থানার ওসি সাহাবুদ্দিন আজাদ বলেন, শুক্রবারের রাতের ঘটনায় নিরালা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সার্জেন্ট রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে ৩৫ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক ১৫০/২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

শেয়ার