শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় মাদিবা

তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা আর সব ভেদাভেদ ভুলে দক্ষিণ আফ্রিকার মহান নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার স্মরণানুষ্ঠান উদযাপিত হয়ে গেল। এ অনুষ্ঠানে জমে হাজার হাজার মানুষের ভিড়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা থেকে শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকার সাধারণ জনগণ সোয়েটোর এফএনবি স্টেডিয়ামে নৃত্যগীতের মাধ্যমে প্রয়াত ম্যান্ডেলাকে স্মরণ করেছেন। এ শোক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রনায়ক থেকে শুরু করে মন্ত্রী, রাজপরিবারের সদস্য, এমনকি বিশ্বখ্যাত তারকারাও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ম্যান্ডেলার ভক্তরা মাদিবা লেখা ছবি, মুখে আফ্রিকার জাতীয় পতাকার বিভিন্ন রং মেখে হাজির হয়ে বৃষ্টির মধ্যে স্টেডিয়ামে বসে গানের মাধ্যমে মাদিবাকে স্মরণ করলেন। ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ম্যান্ডেলার জীবন বন্দনার মাধ্যমে স্মরণ করেন তাঁকে। জাতীয় শোকের এ অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতিসংঘের মহাসচিব, সাবেক আর্চবিশপ ভেসমন্ড টুটু, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান, বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে মন্ত্রী, রাজপরিবারের সদস্য, সেলিব্রেটি সবাই দাঁড়িয়ে ম্যান্ডেলার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। মাদিবা দক্ষিণ আফ্রিকার শুধু নন, গোটা আফ্রিকাকেই নতুন রূপে উপস্থাপন করেছেন তাঁর অহিংস নীতির জন্য। তিনি সত্য, ন্যায় ও অহিংস, দর্শনের প্রতীক, প্রতিশোধ নয়, সব মানুষকে এক চেতনায়, একান্ত মানবিক মর্যাদার পথে আনার নীতি অনুধাবন করেছেন। এতে তিনি সফল হয়েছেন। ইটটি মারলে যে পাটকেল খেতে হয় এ প্রবাদটিও মিথ্যা বলে প্রমাণ করে দিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার মুক্তির সংগ্রামে মাদিবা ঝাঁপিয়ে পড়েন একেবারে তরুণ বয়সে। বহু সংগ্রাম করতে হয়েছে তাঁকে, এমন কি জেলেও যেতে হয়েছে তাঁকে একাধিকবার। ম্যান্ডেলা ছিলেন আপন শত্রুর পরম বন্ধু। তাঁর জীবন আদর্শে যে সংগ্রাম তার পুরোটাই নীতির বিরুদ্ধে, অন্যায় অপমানের বিরুদ্ধে। সে কারণেই হয়ত তিনি জেলে থাকার সময়ও সর্বজন এমনকি শেতাঙ্গদেরও প্রিয় হতে পেরেছিলেন। সাতাশ বছর কারা অন্তরালে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধ তথ্য প্রবাহে থাকার পরও তাঁর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার পরিধিতে বিস্ময় মেনেছেন বিশ্বনন্দিত সাংবাদিকরা।
ম্যান্ডেলা আজীবন ছিলেন সাম্যের পক্ষে। জীবনের সোনালি সময়গুলো বিলীন করেছেন বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে। জয় করে নিয়েছেন মানুষের মন। তাই তাঁর মৃত্যুর পর বিশ্ব দেখল শ্রেণী ধর্ম বর্ণ ভেদাভেদহীন অন্য এক জগত। তার মৃত্যুতে বিশ্বে আজ যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা কখনও পূরণ হওয়ার নয়। ম্যান্ডেলা ছিলেন মহানায়ক। পৃথিবীর এক আলোকবর্তিকা। বস্তুত নেলসন ম্যান্ডেলা বিশ্বের যে অভিভাবকত্ব অর্জন করেছিলেন তা আর কারও পক্ষে সম্ভব হবে কি না তা সন্দিহান।
ম্যান্ডেলার স্মরণে জাতীয় এ শোক অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় মহামিলন মেলায়। ম্যান্ডেলাকে শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানাতে জোহানেসবার্গে অনেক কষ্ট করে হাজির হয়েছিলেন অনেক মানুষ। কেউ বাসে, কেউ ট্রেনে এবং অনেকে হেঁটেই হাজির হয়েছেন এফএনবি সকার স্টেডিয়ামে। নেলসন ম্যান্ডেলা বহুকাল আমাদের প্রেরণা, পথপ্রদর্শক ও প্রিয় স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকবেন।

শেয়ার