মিষ্টি খেয়ে যমের দুয়ারে

বাংলানিউজ॥ আপনজনদের সঙ্গে নিয়ে দিওয়ালিতে উদযাপন করতে সপরিবারে দেশে গিয়েছিলেন কানাডা প্রবাসী ভারতীয় শামালজিৎ আলেখ। সেখানে এক মিষ্টি খাওয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অসুস্থ হয়ে এখন হাসপাতালে যমের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি।

দুঃখজনক এ ঘটনার শুরু গত নভেম্বরে। ছেলেকে নিয়ে যোগ দিয়েছিলেন পাঞ্জাবের এক দেওয়ালি উৎসবে। সেখানে তখন চলছিল ভারতের বিখ্যাত মিষ্টি গোলাপজাম খাওয়ার প্রতিযোগিতা।কোমর বেধে নেমে পড়েন ৩৬ বছরের সানিও। টপাটপ মিষ্টি গিলে তিনি বিজয়ীও হন। কিন্তু পুরস্কার হাতে নেয়ার সৌভাগ্য তার হয়নি। খাওয়া শেষে উঠে দাঁড়াতে মাথা ঘুরে স্টেজেই পড়ে যান। তাড়াঘড়ি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দশ দিন সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিলেন সানি। জ্ঞান ফিরলেও এখনো তিনি কথা বলতে পারছেন না। হাঁটাচলা তো দূরের কথা।চিকিৎসকদের ধারণা তার ব্রেন হেমারেজ হয়েছে।

ঘটনার দিন পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলো সানির দশ বছরের পুত্র পবন। সেদিনের কথা বলতে গিয়ে সে জানায়,‘ খাওয়া শেষ করে বাবা উঠে দাঁড়ান। আমি দেখছিলাম তিনি অল্প অল্প ঢুলছেন। তারপর পড়ে গেলেন। ভয়ে আমি কাঁদতে শুরু করলাম।’

সানি অসুস্থ হওয়ার পরপরই পাঞ্জাবভাষী রেড এফএম রেডিও প্রতিযোগিতাটি বন্ধ করে দেয়।এই মিষ্টি খাওয়া প্রতিযোগিতার আয়োজক ছিল তারাই। আয়োজকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সানির পরিবার।নিকতাত্মীয় ইন্দ্রজিৎ দালেহ বলেন,‘ এ ধরণের প্রতিযোগিতা যারা করে তাদের প্রতিযোগীদের নিরাপত্তার দিকে নজর দেয়া উচিত ছিল।ঘটনাস্থলে তাদের কয়েকজন চিকিৎসক রাখা দরকার ছিল।’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সময় সানিকে কোনো ফর্ম পূরণ হয়নি বলেও তিনি জানান।

দালেহ আরো বলেন,‘তারা তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে।তিনি উঠে দাঁড়ানোর পর মাথা ঘুরে পড়ে যান। আমি ভেবেছিলাম হয়ত গলায় খাবার আটকে গেছে। আসলে তিনি স্ট্রোক করেছিলেন।স্ট্রোক থেকে পরে তার ব্রেন হেমারেজ হয়।’

অসুস্থ হওয়ার পর থেকে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন সানি। তার অবস্থার তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে আশা ছাড়তে নারাজ সানির পরিবার।
এদিকে গত এক মাসে হাসপাতালে পাহাড় পরিমান বিল জমেছে। এখন বিল কমানোর জন্য আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে পরিবার।

শেয়ার