জুমার পরেই তাণ্ডবে শিবির গাড়ি-বাজার-অফিস ছাই

Moteejhil
বাংলানিউজ ॥
একাত্তরে হত্যা, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি বৃহস্পতিবার রাতে কার্যকর হওয়ার পর দলটির নেতা-কর্মীরা শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে।
জুমার নামাজের পরপরই শত-শত জামায়াত শিবির কর্মী চড়াও হয় নিরীহ নগরবাসীর ওপর। রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরাপুল, খিলগাঁও, মালিবাগ ও রামপুরা এলাকায় চালায় ব্যাপক ধংসযজ্ঞ।
একের পর এক গাড়ি জ্বালিয়ে, হলিডে মার্কেটের ক্ষুধে ব্যবসায়ীদের সামান্য পূঁজির ব্যবসা পুড়িয়ে, পুলিশের অত্যকেন্দ্র তছনছ করে আগুন জ্বালিয়ে উল্লাস করে তারা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ জলকামান, টিয়ারগ্যাস, রাবার বুলেট ছোঁড়ে। দমকল বাহিনীর গাড়ি ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।
এসময় পুলিশের শটগানে দু’জন দুষ্কৃতিকারী গুলিবিদ্ধ হয় বলেও জানান পুলিশের মতিঝিল জোনের ডিসি আশরাফুজ্জামান।
নাশকতার মূল দায়িত্বে থাকা একজনসহ পাঁচ জন আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার বেলা দুইটার দিকে মতিঝিলের এজিবি কলোনির কাঁচা বাজারের সামনে চারটি প্রাইভেটকার ও দু’টি মোটরসাইকেলে আগুন দেয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা। এরপর পুরো রাস্তায় পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। এ সময় ৫-৬টি ককটেলেরও বিস্ফোরণ ঘটায়।
এদিকে মালিবাগ আবুল হোটেলের সামনে থেকে শুরু করে রামপুর কাঁচাবাজার পর্যন্ত এলাকায় রাস্তার বিভিন্ন যানবাহনে আগুন ও দোকানপাটে ভাঙচুর করে শিবির কর্মীরা।
মালিবাগে আবুল হোটেলের সামনে অনাবিল পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় শিবির কর্মীরা। এছাড়া রামপুরা কাঁচাবাজারের সামনে হিমাচল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা।
এ সময় ১৫টিরও বেশি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় শিবির ক্যাডাররা।
পরবর্তীতে রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
শুক্রবার রাজধানীর মতিঝিলে শিবিরের নাশকতার পরিকল্পনাটিকে ভিন্নধরনের হিসেবে দেখছে পুলিশ।
পুলিশি নিরাপত্তার ঘেরাটোপ ভেদ করে শিবির কর্মীরা কীভাবে নাশকতা চালাল এ প্রশ্নের উত্তরে পুলিশের মতিঝিল জোনের ডিসি আশরাফুজ্জামান বলেন, কাদের মোল্লার ফাঁসির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতায় ছিলো। এরমধ্যেই একটি কাভার্ড ভ্যানে করে মতিঝিলে বিপুল পরিমাণ লাঠি-সোটা জড়ো করে শিবির। দুপুরের আগেই হালিডে মার্কেটে ক্রেতা সেজে কেনাকাটা করতে থাকে তারা। নামাজ শেষে হলিডে মার্কেট থেকে শিবির প্রথমে মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং লাঠি নিয়ে ভাংচুড় চালায়।
আশরাফ বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ইব্রাহিম ফাতেমি এবং যুগ্ম কমিশনার সাহাবুদ্দিন খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

শেয়ার