সরকারের নির্দেশনা অমান্য॥ সমিতির নেতাদের পকেট ভারি॥ যশোরে মাধ্যমিককে ধার করা প্রশ্নে পরীক্ষা

school
তবিবর রহমান ॥ সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে যশোরের মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে এবারও ধার করা প্রশ্নপত্রে বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। স্ব স্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও তারা উপজেলা শিক্ষক সমিতির করা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিয়েছে। আবার চৌগাছা ও ঝিকরগাছা উপজেলায় একই প্রশ্নপত্রে নেয়া হয়েছে পরীক্ষা। এছাড়া ওই এলাকায় প্রশ্নপত্র ফাঁসেরও অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা ৫০০ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ক্রয় করেছে বলে জানা গেছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সৃজনশীল বিষয়ে মাধমিক শিক্ষকদের অভিজ্ঞ করা এবং শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে কার্যকরী ভূমিকা রাখার জন্য সরকার গত বছর থেকে বিদ্যালয় গুলোর স্ব স্ব প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার নির্দেশ দেয়। সরকারের এই নির্দেশনা জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস আনুষ্ঠানিকভাবে স্কুলগুলোকে জানিয়ে দেয়। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের সেই আদেশ বেশিরভাগ স্কুল মানেনি। সূত্র মতে, ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলায় এবার একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। শিক্ষকদের অনৈক সুবিধা দিয়ে দুই উপজেলার শিক্ষক সমিতি সিন্ডিকেট করে একাজটি করেছে। সেখানে প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে। ঝিকরগাছার ব্যাংদাহ সম্মিলনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র সবুজ হোসেন শিক্ষকদের কাছে এবিষয়টি স্বীকার করেছে। সবুজ গণিত পরীক্ষার দিন উত্তরপত্র নকল করে নিয়ে পরীক্ষা দিতে যায়। কক্ষ পরিদর্শক টের পেয়ে দেখেন প্রতি প্রশ্নপত্র অনুযায়ী নকল লেখা। এসময় তাকে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলে চৌগাছার ধুলিয়ানি স্কুলের এক শিক্ষকের কাছ থেকে প্রশ্ন সংগ্রহের কথা জানায়।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বিদ্যালয় পরিদর্শক নুরুজ্জামান জানান, জেলার ৮ উপজেলায় মাধ্যমিক, নি¤œমাধ্যমিক ও কলেজিয়েট স্কুল মিলে ৫শ’ ৩৪ টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব স্কুলের অধিকাংশই সমিতির কাছ থেকে ধার করা প্রশ্নপত্র নিয়ে বার্ষিক পরীক্ষা নিয়েছে। তিনি জানান, মাত্র ১০ ভাগ বিদ্যালয় নিজেদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিয়েছে। এর মধ্যে শহরের জিলা স্কুল, সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, দাউদ পাবলিক স্কুল, সেক্রেট হার্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে দু’একটি স্কুলে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে নিজস্ব প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা। এদিকে শিক্ষক সমিতির কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগ ও অনৈতিক সুবিধা পেতে ধার করা প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিদ্যালয় পরিদর্শক নুরুজ্জামানও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে আগামীতে এ অবস্থার পরিবর্তন করে যাতে আরও উন্নতি হয় সেজন্য কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এদিকে, প্রতিবারের মতো প্রশ্নপত্রকে পুঁজি করে এবারও মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। সূত্র জানায়, সমিতির নেতারা এক জোট হয়ে বিগত বছরের মতো যশোরের একটি পুস্তক প্রকাশনী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশ্ন সংগ্রহ করে স্কুলে সরবরাহ করেছে। এ প্রত্রিয়ায় স্কুল ও প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান উভয়ের কাছ থেকেই বাণিজ্য করেছে শিক্ষক সমিতির নেতারা।

শেয়ার