মুখে কুলুপ বিএনপির

BNP
বাংলানিউজ ॥

স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীকে একরকম ‘সহোদর’র মতো পাশে রেখেই সরকার গঠন করেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। ছত্রছায়ায় রেখে সমর্থন যুগিয়েছে তাদের রাষ্ট্র ও সরকাবিরোধী সকল কার্যকলাপেও। অথচ সেই জামায়াতের ‘দুর্দিনে’ বরাবরের মতোই কাদের মোল্লা রায় কার্যকরের বিষয়েও মুখে কুলুপ এঁটেছে বিএনপি।

কাদের মোল্লার রায় কার্যকরের ঠিক আগ মুহূর্তে একে একে আত্মগোপনে থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সকল সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও শীর্ষস্থানীয় সিনিয়র নেতাদের মোবাইল-ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ৯৯ শতাংশ নেতারই মোবাইল-ফোন বন্ধ পাওয়া যায়

দু’একজনের মোবাইল-ফোন খোলা থাকলেও রিসিভ করেননি তারাও।

রাজপথের ‘সহযোদ্ধা’ দলের এমন ‘দুর্দিনে’ বিএনপির প্রতিক্রিয়া জানতে বাংলানিউজের কথা হয় দপ্তরের দায়িত্বে থাকা শীর্ষস্থানীয় এক নেতার সঙ্গে। কিন্তু এ ব্যাপারে মন্তব্য দূরের কথা, নিজের নামটিও কোথাও প্রকাশ করতে বারবার নিষেধ করেন তিনি।

একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করার দায়ে ক্রমান্বয়ে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের গ্রেফতার ও মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন দণ্ডাদেশের ব্যাপারেও মুখে কুলুপ আঁটে ‘কৌশলী’ বিএনপি।

মাঝে-মধ্যে ‘রাজবন্দিদের’ মুক্তি চাইলেও শাহবাগের গণজাগণ মঞ্চে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে চলা আন্দোলনেও একসময় নৈতিক সমর্থন দিতে বাধ্য হয় নীতি-নির্ধারণে দুর্বলতার পরিচয় দেওয়া বিএনপি।

গত ৮ নভেম্বর নাশকতার অভিযোগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যরিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, এম কে আনোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়। একই অভিযোগে কয়েকদিন পর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় গ্রেফতার করা হয় যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে।

এ ক’জন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে গ্রেফতারের পর থেকেই গা-ঢাকা দেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুকসহ স্থায়ী কমিটি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব ও সিনিয়র পর্যায়ের নেতারা।

যদিও মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ কয়েকজন গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এসেছিলেন, তবে গণমাধ্যমের কোনো প্রতিনিধিদের সঙ্গেই কোনো কথা বলেননি তারা।

মওদুদ, রফিক ও আনোয়ারের গ্রেফতার এবং শাহবাগে গাড়িতে আগুন দেওয়ার মামলার পর কেবল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহবুবুর রহমানের মোবাইল ফোনই খোলা ছিল। তবে কাদের মোল্লার রায় কার্যকরের সংবাদের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে তার মোবাইল-ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

শেয়ার