হরতাল অবরোধে ঝিনাইদহে ফুল চাষিরা বিপাকে ৪শ’ টাকার ফুলের ঝোপা বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ॥ একের পর এক হরতাল-অবরোধে বিপাকে পড়েছেন ঝিনাইদহের ফুল চাষিরা। ৪০০ টাকার ফুলের ঝোপা এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ১০ টাকায়। এ কারণে জেলার প্রায় দেড় হাজার বিঘা জমিতে উৎপাদিত লাখ লাখ টকার ফুল বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দিতে হচ্ছে কৃষকদের। অনেকে এসব ফুল গরু-ছাগলের খাবার হিসেবে ব্যবহার করছেন। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফুল উৎপাদনে খ্যাত ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা তাদের ফুল বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দিচ্ছেন। হরতাল-অবরোধের কারণে ব্যবসায়ীরা ফুল কিনছেন না। ফলে গত সপ্তাহে তাদের উৎপাদিত ফুলের ৯০ ভাগ নষ্ট হয়ে গেছে বলে তাদের দাবি। ফুল চাষিরা জানান, তাদের চাষের সব সম্বল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন তারা এক ঝোপা ফুল ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করছেন। একটি ঝোপাতে প্রায় ৮শ’ থেকে ৯শ’ ফুল থাকে। ১৫ দিন আগেও তারা এক ঝোপা ফুল ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকায় বিক্রি করতেন। তারা আরো জানান, জমি থেকে একটি ফুল তুলে একটি ঝোপা তৈরি করতেই খরচ হয় ১৬ থেকে ১৮ টাকা। ফুল তোলা এবং ঝোপা তৈরির কাজ করেন গ্রামের কয়েক হাজার নারী শ্রমিক। বর্তমানে ফুলের দাম না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন এসব নারী শ্রমিক। কালীগঞ্জ উপজেলার বড়ঘিঘাটি গ্রামের ফুল চাষি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ বছর ৪ বিঘা জমিতে গাঁদা, গোলাপ ও রজনীগন্ধা ফুলের চাষ করেছি। এতে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করেছি। কিন্তু গত দু’সপ্তাহ যাবত অবরোধ ও হরতালের কারণে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ফুল নষ্ট হয়ে গেছ। একই এলাকার ফুল চাষি কুতুব উদ্দিন জানান, এ বছর এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ফুল চাষ করেছিলাম, কিন্তু অনেক ফুল বিক্রি না হওয়ায় গবাদি পশুর খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করেছি। একই রকমের কথা জানালেন, বালিয়াডাঙ্গা গ্রমের ফুল চাষি মনোরঞ্জন বিশ্বাস, স্বপন মন্ডল, আমিরুল ইসলামসহ আরো অনেকে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না বাজারের ফুল চাষি শওকত আলী জানান, জমি থেকে ফুল তুলে গাঁথা পর্যন্ত প্রতি ঝোপায় প্রায় ১৬ থেকে ১৮ টাকা খরচ হয়। কিন্তু অবরোধের কারণে ঝোপা তৈরির খরচের টাকা না ওঠায় জমিতেই ফেলে দিতে হচ্ছে ফুল। ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, পচনশীল হওয়ায় উৎপাদিত ফুল কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করে কোথাও রাখা যাচ্ছে না। এছাড়া স্থানীয়ভাবে তেমন কোন অনুষ্ঠান না থাকায় ফুলের চাহিদাও কম। ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক জয়নুল আবেদীন জানান, চলতি বছরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার চাষি ১৪৬৭ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ের সহিংস হরতাল আর অবরোধের কারণে কৃষকদের উৎপাদিত ফুলের প্রায় ৮০ ভাগ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন জেলার ফুল চাষিরা।

শেয়ার