যশোরে হরতাল-অবরোধে জ্বালাও পোড়াও ভাংচুর ॥ সাংবাদিক লাঞ্ছিত ॥ প্রতিবাদে শাহীন চাকলাদারের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল

shahinvhi
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে হরতাল ও অবরোধে গতকাল ব্যাপক জ্বালাও পোড়াও করেছে জামায়াত শিবির ও বিএনপি ক্যাডাররা। এদিন যশোর-খুলনা মহাসড়কের রূপদিয়া ও বসুন্দিয়া এলাকায় শতাধিক গাছ কেটে ফেলেছে জামায়াত শিবির। আর শহরের দড়াটানা, সিভিল কোর্ট মোড়, চাঁচড়াসহ বেশ কয়েকটি স্থানে অগণিত মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক ভাংচুর করেছে যুবদল ছাত্রদল নেতারা। এসময় রেহায় পাননি সাংবাদিকরাও। প্রথম আলোর যশোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করে তার মোটরসাইকেল ভাংচুর চালানো হয়। জেলা নেতাদের উপস্থিতিতে এসব ঘটনা ঘটেছে। এদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারের নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য মতে, মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর থেকেই জামায়াত শিবির কর্মীরা যশোর-খুলনা মহাসড়কে নেমে আসে। বুধবার ভোর অবধি তারা যশোর সদর উপজেলার হাটবিলা ঈদগাহ মোড় থেকে বসুন্দিয়া পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার মহাসড়কের পাশের শতাধিক গাছ কেটে রাস্তার ওপর ফেলে যশোর-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে ।
সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা মহাসড়ক থেকে গাছ সরিয়ে ফেলা শুরু করে। বিকেল অবধি সব গাছ মহাসড়ক থেকে সরানো সম্ভব হয়নি। যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক জানান, হরতালকারীরা অসংখ্য গাছ কেটে যশোর-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে। গাছ সরিয়ে সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করতে সন্ধ্যা হয়েছে। এদিকে, সকালে যশোরের সিঙ্গিয়া স্টেশনের কাছে রেললাইনের স্লিপারে আগুন ধরিয়ে অবরোধ করে হরতাল সমর্থকরা। এতে রেল যোগাযোগ সাময়িক বিঘিœত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
দুপুরে চাঁচড়া মোড়ে হরতাল সমর্থক বিএনপি ও জামায়াত শিবির নেতাকর্মীদের কবলে পড়েন প্রথম আলো’র যশোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরও তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে তার মোটরসাইকেলটি ভেঙ্গে দেয়া হয়। এঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের (জেইউজে) সভাপতি সাজ্জাদ গণি খান রিমন, সাকিরুল কবীর রিটনসহ নেতৃবৃন্দ। এদিকে দাড়াটানা, চাঁচড়া, মনিহার স্ট্যান্ড, খাজুরা স্ট্যান্ড এলাকায় রিকসা, মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক ভাংচুর করেছে হরতাল সমর্থক বিএনপি ও জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা। এছাড়া অনেকের বাইসাইকেল থেকে নামিয়ে দিয়ে হেনাস্তা করা হয়। বুধবার যশোর শহর ও শহরতলীতে এ দৃশ্য দেখা গেলেও পুলিশ এবং র‌্যাবের তৎপরতা সেভাবে লক্ষ্য করা যায়নি। এনিয়ে জনসাধারণ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে দুপুরে হরতাল বিরোধী মিছিল করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদেরর নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিলটি বের হয়। মিছিলে অংশগ্রহণ করেন সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মীর জহুরুল ইসলাম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা খয়রাত হোসেন, উপ প্রচার সম্পাদক ফারুক আহম্মেদ কচি, সদস্য রেজাউল ইসলাম রেজা, শহর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন সিদ্দিকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসান লাল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম মাহমুদ হাসান বিপু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জুয়েল, শহর আওয়ামী লীগ নেতা সন্তোষ দত্ত, হাবিবুর রহমান, রাজিব হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম রিয়াদ, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল, সহসভাপতি ফয়সাল খান, নিয়ামত উল্লাহ, সাইদুজ্জামান বাবু, জাবের হোসেন জাহিদ, রবিউল ইসলাম, আলমগীর হোসেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির শিপলু, তরিকুল ইসলাম জনি, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী তৌহিদুর রহমান জুয়েল, ক্রীড়া সম্পাদক মাসুদুর রহমান মিলন, অর্থ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, শিক্ষা ও পাঠচক্র মেহেদি হাসান রনি, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক রওশন ইকবাল শাহী, মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক সজিবুর রহমান, সাহিত্য সম্পাদক সাগর রহমান, উপ গণযোযোগ সম্পাদক সবুজ বিপ্লব, সদস্য এসএম জাবেদ উদ্দিন, আলমগীর হোসেন, ইয়াসিন কাজল, সালসাবিল আহম্মেদ, পুরাতন হল শাখার সভাপতি আলমগীর হোসেন বিদ্যুৎ ও সাধারণ সম্পাদক অনুপ সরমা প্রমুখ। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে হরতাল অবরোধের নামে তাণ্ডব, নাশকতার প্রতিবাদ ও যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানানো হয়।

শেয়ার