‘ভারত-পাকিস্তানের পরমাণু যুদ্ধে মরবে ২শ’ কোটি মানুষ’

pakinda

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষ ডেকে আনতে পারে। আর এতে দুইশ’ কোটি মানুষ প্রাণ হারাবে এবং মানব সভ্যতার ধ্বংসকে তরান্বিত করবে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দ্য ডন এ কথা জানিয়েছে।
পরমাণু অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করবে এবং ফসলি জমি ধ্বংস হয়ে যাবে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক খাদ্য বাজার বড় ধরনের দুর্যোগের মধ্যে পড়ে যাবে।
দ্য প্রিভেনশন অব নিউক্লিয়ার ওয়ার অ্যান্ড ফিজিসিয়ানস ফর সোস্যাল রেসপনসিবিলিটি ২০১২ সালের এপ্রিলে তাদের প্রাথমিক গবেষণা প্রতিবেদনে অনুমান করেছিলো, পরমাণু যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ একশ’ কোটির বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেবে।
দ্বিতীয় মেয়াদে গবেষণার পর সংস্থাটি জানায়, তারা শুরুতে চীনের ওপর এর প্রভাব বিস্তারিতভাবে আমলে নেয়নি। পরে তারা হিসাব করে দেখেছে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটিকে এর প্রভাবে মারাত্মক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে হবে।
প্রতিবেদনের লেখক ইরা হেলফ্যান্ড বলেন, “উন্নয়নশীল দেশে একশ’ কোটি মানুষের মৃত্যু নিশ্চিতভাবেই মানব ইতিহাসের বিপর্যয়কারী ঘটনা। কিন্তু যদি চীনের আরো ১৩০ কোটি মানুষের ঝুঁকিতে পড়ার বিষয়টিও এর সঙ্গে যোগ করতে হয় তবে আমরা এমন একটি ধ্বংসলীলার মধ্যে প্রবেশ করবো যেটা পরিষ্কারভাবে মানব সভ্যতাকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে।“
হেলফ্যান্ড আরো বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে পরমাণু অস্ত্রধারী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর এরই মধ্যে দুদেশের মধ্যে তিনবার বড় ধরনের যুদ্ধ হয়েছে।
সীমিত পরিসরের পরমাণু যুদ্ধও পৃথিবীতে একই ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন হেলফ্যান্ড।
তিনি বলেন, আধুনিক পরমাণু অস্ত্রগুলো ১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে ফেলা যুক্তরাষ্ট্রের বোমা দুইটির চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী। ওই দুই বোমায় আঘাতে দুই লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।

শেয়ার