নড়াইলে পুলিশের ওপর শিবিরের ত্রিমুখী হামলা গাড়িতে অগ্নিসংযোগ॥ ওসিসহ আহত ১৫

নড়াইল প্রতিনিধি॥ নড়াইল সদর উপজেলার ঘোড়াখালি বুধবার সকালে জামায়াত-শিবিরের তান্ডবে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা ঢাল-সড়কি, বল্লম, রামদা, লাঠিশোঠাসহ নিয়ে পুলিশের ওপর তিনদিক থেকে হামলা চালায়। তারা পুলিশের মিনি পিকআপে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাল্টা জবাবে পুলিশও গুলি ছোড়ে। এ সময় স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। প্রাণ রক্ষায় পথচারীরা দিকবিদিক ছুটাছুটি করে। জনশূন্য হয়ে পড়ে গোটা ঘোড়াখালি এলাকা। প্রায় ঘন্টাব্যাপি এই সংঘর্ষে সদর থানার ওসি (তদন্ত), দুই উপ-পরিদর্শকসহ ৮ পুলিশ সদস্য এবং ৭ জামায়াত-শিবির কর্মী আহত হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ওসি মোক্তার হোসেনকে মূমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, সংঘর্ষে আহত ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক জালাল হোসেন, টিএসআই পান্নু, হাবিলদার বাবলু, কনষ্টেবল সাইদুর রহমান সাইদ, শরিফুল ইসলাম, রকিব হোসেন এবং হিজবুল্লাহকে নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ সময় জামায়াত শিবিরের আরো ৭ কর্মী আহত হয় বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়। তবে আহত কর্মীদের নাম ঠিকানা গোপন রাখা হয়েছে। তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে চিকিৎসা করানো হচ্ছে বলে সূত্রে জানা যায়। এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ বহনকারি একটি মিনি পিকআপ ভস্মিভূত করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৭০ থেকে ৮০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলাকালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জামায়াত-শিবিরের শত শত কর্মী ঢাল-সড়কি, বল্লম, রামদা, লাঠিশোঠাসহ নড়াইল-মাগুরা সড়কের ঘোড়াখালি মোড় এলাকায় অবস্থান নেয়। তারা নড়াইল-মাগুরা ও নড়াইল-মাইজপাড়া সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ করে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা তিনদিক থেকে পুলিশের উপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় পুলিশের তিন কর্মকর্তাসহ ৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গেলে হামলাকারী জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা পালিয়ে যায়। পাল্টা জবাবে পুলিশ গুলি ছুঁড়লে শিবিরের ৭ ক্যাডার আহত হয়। তবে তাদের হাসপাতালে ভর্তি না করায় তাদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।
খবর পেয়ে নড়াইলের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার বিএম নূরুজ্জামান ও সহকারি পুলিশ সুপার (সার্কেল) মাসুম আহম্মেদ ভূঁইয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, এঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এলাকায় র‌্যাব-পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সুপার জানান, পরিস্থিতি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইন-শৃংখলা রক্ষাবাহিনীর ওপর হামলার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

শেয়ার