খুলনায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষ ॥ পুলিশসহ আহত ৩০

খুলনা ব্যুরো॥ ১৮ দলের অবরোধ ও জামায়াতের হরতালে খুলনার পৃথক দুটি স্থানে পুলিশের ওপর হামলা চালায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবির। আন্দোলনের নামে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির যৌথভাবে এই হামলা চালালে পাণ্টা জবাবে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে এক শিবির কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়। দুই পুলিশ সদস্যসহ আহত হয় অন্তত ৩০ জন। এ সময় পুলিশ কলেজের এক প্রভাষকসহ ৭জনকে আটক করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সকাল ৭টার দিকে শিবির ঝটিকা মিছিল বের করে নগরীর সোনাডাঙ্গা আল ফারুক সোসাইটির সামনে গাছের গুড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ বাঁধা দিলে সংঘর্ষ বাধে। শিবিবের ক্যাডাররা পুলিশকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহুভাবে ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করতে থাকে। প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে সোনাডাঙ্গাস্থ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ বাধ্য হয়ে গুলিবর্ষণ ও টিয়ারশেল ছোড়ে। এতে ৭/৮জন শিবির কর্মী গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০জন আহত হয়। এসময় শিবির কর্মী আব্দুর রাজ্জাক, সিদ্দিকুর রহমান, তারিকুর রহমান, মাহমুদ হাসান ও গোলাম রহমানকে আটক করে। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ গোলাম রহমানকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রিজনসেলে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা জোনের এসি জোবায়ের হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১০২ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ৩টি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। তবে এ সংঘর্ষে পুলিশের কেউ আহত হননি। অপরদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর নরনিয়া মাদ্রাসার সামনে খুলনা-সাতক্ষীরা সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তারা মিছিল নিয়ে চুকনগর বাজারের দিকে আসার চেষ্টা করলে পুলিশ বাঁধা দেয়। এ সময় দু’ পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩০ রাউন্ড শটগানের ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ কনস্টেবল মাসুদুল হক ও কিসলুর রহমান এবং যুবদল কর্মী রাসেল ফকির, আজিজুর রহমান, মোশাররফ হোসেন, নাসির উদ্দিন ও কাদের মহলদার আহত হয়। আহত দুই পুলিশ সদস্য ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আওলাদ হোসেন জানান, সংঘর্ষে জড়িত বিএনপি কর্মী সৈয়দ ঈসা টেকনিক্যাল কলেজের প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক ও ফাতেমা বেগম, আকলিমা বেগম, ও মাহফুজা বেগমকে আটক করা হয়েছে।

শেয়ার