অবরোধের নামে রাস্তার গাছ কেটে সাবাড় করছে জামায়াত-বিএনপি

tree
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে প্রায় ৫কিলোমিটার এলাকার শতাধিক গাছ কেটে ফেলেছে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা। বুধবার ভোরে তারা এসব গাছ কেটে সড়কের ওপর ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে। মানুষ পুড়িয়ে হত্যা ও নৈরাজ্যের পর এবার বিএনপি-জামায়াত শিবিরের বর্বরতার টার্গেটে পরিণত হয়েছে রাস্তার পাশের বড় বড় গাছ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ অপরিহার্য। সেই গাছ কেটে এমন বর্বরতার ঘটনায় ধিক্কার জানিয়েছে সচেতন মানুষ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর থেকেই জামায়াত শিবির কর্মীরা যশোর-খুলনা মহাসড়কে নেমে আসে। বুধবার ভোর অবধি তারা সদর উপজেলার হাটবিলা ঈদগাহ মোড় থেকে বসুন্দিয়া পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার মহাসড়কের পাশের শতাধিক গাছ কেটে ফেলে । কেটে ফেলা গাছের মধ্যে বড় বড় শিশু, মেহগনি, তাল, বাবলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। এগুলো দিয়ে তারা যশোর-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে। বৃক্ষ নিধনের বিষয়টি বুধবার সকালে জানতে পারে পুলিশ ও বিজিবি। পরে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা মহাসড়ক থেকে গাছ সরিয়ে ফেলা শুরু করে। বিকেল অবধি সব গাছ মহাসড়ক থেকে সরানো সম্ভব হয়নি। এতে যশোর-খুলনা সড়কের যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের ঘটনায় সচেতন নাগরিককের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা জরুরী। কিন্তু দেশের আয়তনের ১০ থেকে ১২ শতাংশ বনভূমি রয়েছে। এঅবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যা মোকাবেলায় গাছের বিকল্প নেই। সেই গাছের উজাড় করে প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। হরতাল অবরোধের নামে বিএনপি ও জামায়াত শিবির ক্যাডারা শুধু যশোর নয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বৃক্ষ নিধনর করছে ।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক জানান, হরতালকারীরা অসংখ্য গাছ কেটে যশোর-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে প্রশাসনের লোকজন গাছ সরিয়ে ফেলা শুরু করেছে। কিছু গাছ সরিয়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হলেও এখন সবগাছ সরানো সম্ভব হয়নি।

শেয়ার