শিবিরের মেসে ‘নাশকতায় অর্থদাতাদের’ তালিকা

shibir
সমাজের কথা ডেস্ক॥ হরতাল-অবরোধের মধ্যে ‘দেশব্যাপী নাশকতার জন্য’ পুলিশের পক্ষ থেকে যাদের দায়ী করা হচ্ছে সেই ছাত্রশিবিরের সিলেট শাখার অর্থদাতাদের তালিকা পাওয়া গেছে একটি মেসে।
নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য এসব অর্থদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে সিলেট নগরীর দর্শনদেউড়ি এলাকার পায়রা-৮২ নম্বর বাসার তৃতীয় তলার কয়েকটি কক্ষ থেকে ইসলামী ছাত্র শিবিরের বিপুল পরিমাণ বই, প্রচারপত্র, আয়-ব্যয়ের হিসাব ও অর্থদাতাদের তালিকা জব্দ করা হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ আয়ুব বলেন, গত দুই দিনের হরতালে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা নগরীতে বিভিন্নভাবে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
“গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, পায়রা-৮২ নম্বর বাসা থেকে এসব নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সকাল পৌনে ১০টায় ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়।”
অভিযানের সময় ওই বাসায় কাউকে পাওয়া যায়নি।
ছাত্র শিবিরের অর্থের যোগানদতাদের তালিকায় ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, দলীয় নেতা, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছে বলে জানান এডিসি আয়ুব।
তিনি বলেন, “নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
যুদ্ধাপরাধে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের বিচার শুরুর পর থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে শুরু করে তাদের সহযোগী সংগঠন ছাত্র শিবির।
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে তাদের সহিংসতা চরম মাত্রায় পৌঁছায়, যার ধারাবাহিকতায় এখনো দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা চলছে।
ওই মেসে পাওয়া একটি কাগজের হিসেব অনুযায়ী সিলেট মহানগর ছাত্রশিবিরের নিয়মিত আয় ৮০ হাজার টাকা, ব্যয় এক লাখ ৪০ হাজার টাকা।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদালয় শাখা শিবিরের আয় ৩০ হাজার টাকা, ব্যয় ৫৫ হাজার টাকা। সিলেট জেলা পূর্ব শাখা শিবিরের আয় ৩৫ হাজার টাকা, ব্যয় ৬০ হাজার টাকা। আর জেলা পশ্চিম শাখা শিবিরের আয় ৪০ হাজার টাকা ও ব্যয় ৫২ হাজার টাকা।
নথি অনুযায়ী এসব শাখায় ছাত্রশিবিরের ১২ হাজার ৩৬০ জন নেতা-কর্মী রয়েছে।

শেয়ার