মায়ের কোলের শিশুকেও হত্যা করেন খোকন রাজাকার

khokanrajakar
বাংলানিউজ ॥
রাজাকারদের আসতে দেখে আমি আবার বাড়ির মধ্যে ঢুকে আব্বা, আম্মা, ছোটো দুই ভাই ও দুই বছরের ছোট বোন বুলুকে নিয়ে বাড়ির পূর্ব পাশ দিয়ে বের হয়ে দক্ষিণ দিকের ঘোড়ামারা বিলের দিকে পালাতে থাকি। আমাদের পালাতে দেখে খোকন রাজাকার ও তার সঙ্গে আসা রাজাকার ও পাকিস্তানি সেনারা আমাদের গুলি করে। গুলিতে মায়ের কোলে থাকা ছোটোবোন বুলু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার চেয়ারম্যান, পলাতক বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকন রাজাকারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দানকালে এসব কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের হান্নান মুন্সি। তিনি ইউসুফের বিরুদ্ধে ১২তম সাক্ষী। তার পরে সাক্ষ্য দানকালে ১৩তম সাক্ষী রমেশ চন্দ্র রায় একই ঘটনায় তার ঠাকুরদা রাজেন্দ্র চন্দ্র রায়কে খোকন রাজাকার ও তার সহযোগী রাজাকারদের গুলি করে হত্যার বর্ণনা দেন।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্য দেন হান্নান মুন্সি ও রাজেন্দ্র চন্দ্র রায়। তাদের দুজনের বাড়িই ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার গোয়ালদী গ্রামে। ১৯৭১ সালের ৩১ মে খোকন রাজাকারের নেতৃত্বে তাদের গ্রামে গণহত্যা সংঘটিত হয়। দুই সাক্ষী সেদিনের সেসব ঘঠনার বর্ণনা দেন তাদের সাক্ষ্যে।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সাক্ষী দুজনেরই জেরা সম্পন্ন করেছেন রাষ্ট্র নিয়োজিত আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান। বুধবার খোকন রাজাকারের বিরুদ্ধে পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।
সাক্ষ্যে হান্নান মুন্সি বলেন, ১৯৭১ সালের ৩১ মে দুপুর দেড়টার দিকে জাহিদ হোসেন খোকন রাজাকার অন্যান্য রাজাকার ও পাকিস্তানি বাহিনীকে নিয়ে পশ্চিম দিক দিয়ে আমাদের গ্রামে ঢোকেন। গ্রামে ঢুকেই তারা তিনটি গুলি করে। গুলির শব্দ শুনে আমি ঘর থেকে বের হয়ে রাজাকার খোকন, আয়নাল, আতাহার ও পাকিস্তানি রাজাকারদের আমাদের বাড়ির দিকে আসতে দেখি।
তাদের আসতে দেখে আমি আবার বাড়ির মধ্যে ঢুকে আব্বা, আম্মা, ছোটো দুই ভাই ও দুই বছরের ছোটো বোন বুলুকে নিয়ে বাড়ির পূর্ব পাশ দিয়ে বের হয়ে দক্ষিণ দিকের ঘোড়ামারা বিলের দিকে পালাতে থাকি। আমাদের পালাতে দেখে রাজাকার খোকন ও তার সঙ্গে আসা রাজাকার ও পাকিস্তানি সেনারা আমাদের গুলি করে। গুলিতে মায়ের কোলে থাকা ছোট বোন বুলু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।

শেয়ার