মহম্মদপুরে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান॥ পিতা পুত্র মিলে কুপিয়ে জখম করলো মেয়ের মাকে

মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি॥ জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছে তুলি। অথচ অপ্রাপ্ত বয়সের এই তুলিকে সমানভাবে উত্যক্ত করে যাচ্ছিল প্রতিবেশি বখাটে চৌধুরী। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আগেই লিখিতভাবে অবহিত করে রেখেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। কিন্তু তাতেও পিছু হটেনি ! উপরোন্ত ছেলের এই অন্যায় দাবি প্রতিষ্ঠায় পিতাও মরিয়া। তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় ক্ষুব্ধ পিতা-পুত্র মিলে তুলির মাকে কুপিয়ে জখম করেছে। মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বড়রিয়া এ গ্রামে এঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত আঞ্জুয়ারা খাতুনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, আবীর হোসেনের ৮ম শ্রেণি পড়–য়া মেয়ে তুলিকে (১৩) প্রতিবেশি খায়ের সর্দারের বখাটে ছেলে চৌধুরী সর্দার উত্যক্ত করে আসছিল। স্কুলে যাওয়ার পথে প্রায়ই উত্যক্ত করতো। সম্প্রতি তুলির ভাই গালিব বোনকে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছিল। পথে শ্লীতহানির চেষ্টা করে বখাটে চৌধুরী। এতে বাধা দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার পিতা-পুত্র দু’জনে মিলে গালিবকে খুজতে তার বাড়ি যায়। তাকে না পেয়ে তুলির মাকেই কুপিয়ে জখম করে। তার শরীরের মাথাসহ বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাতের হিহ্ন রয়েছে। প্রতিবেশিরা তাকে উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তুলির পিতা আবীর হোসেন জানান, ধোয়াইল আদর্শ বিদ্যালয় থেকে এবছর জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় তার মেয়ে। শ্লীতহানির চেষ্টায় বাধা ও বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান উত্যক্ত করার বিষয়টি জানতে পেরে ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে রেখেছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. সাইমুন নেসা বলেন, আঞ্জুয়ারার অবস্থা খুব ভালো না। মহম্মদপুর থানার পরিদর্শক (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার