আলোকিত ১০ নারীকে জয়িতা সম্মাননা প্রদান

jyoti
ইন্দ্রজিৎ রায় ॥
জীবন চলার পথে বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে আলোকিত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখছেন অসংখ্যা নারী। প্রত্যেকটি নারীরর সংগ্রাম এক একটি উপাখ্যানের মত। বেদনাবিদুর ও বন্ধুর পথ অতিক্রম করে যশোরে যারা সফলতার শীর্ষে অবস্থান করছেন তাদের মধ্যে থেকে ১০জনকে নির্বার্চিত করা হয়েছে এবারের জয়িতা। আর্ন্তজাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে তাদের দেয়া হয়েছে জয়িতা সম্মননা। সোমবার জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনয়াতনে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোকিত নারীদের হাতে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেয়া হয়।
েেজলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কাওসার পারভীনের সভাপতিত্বে জয়িতাদের সম্মননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাকেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল হাসান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রোগ্রাম অফিসার আঞ্জুমান আর মাহমুদা। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা সমবায় অফিসার মশিউর রহমান ও উপশহর মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ শাহনাজ পারভীন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি নির্বাচিত সফল ১০ নারীর হাতে সম্মননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী, শিক্ষা ও চাকরি, সফল জননী, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলার নতুন উদ্যেমে জীবন শুরু ও সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের এই ৫টি ক্যাটাগরিতে ১০ জন জয়িতা নির্বাচিত করা হয়েছে। এরমধ্যে জেলা পর্যায়ের ৫ জন ও উপজেলা পর্যায়ের ৫ জন রয়েছেন।
জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত ৫ জন জয়িতা হলেন যশোরের শার্শা উপজেলার উত্তর বুরুজবাগান গ্রামের হাফিজুর রহমানের স্ত্রী সুরাইয়া পারভীন, সদর উপজেলার হৈবৎপুর ইউনিয়নের লাউখালী গ্রামের আব্দুস সামাদের মেয়ে কামরুন নাহার, অভয়নগর উপজেলার ধলগ্রামের আহমদ হোসেন সরদারের সহধর্মিনী সালেহা আহমেদ, অভয়নগর উপজেলার দত্তগাতি গ্রামের আব্দুল্লাহ মোল্লার মেয়ে আছিয়া খাতুন ও জয়তি সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস।
উপজেলা পর্যায়ের ৫ জয়িতা হলেন সদর উপজেলার শেখহাটি গ্রামের নওয়াব আলীর মেয়ে সুফিয়া মাহমুদ রেখা, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নলভাংগা গ্রামের সৈয়দ বদর উদ্দিন আহমেদের মেয়ে রেবেকা সুলতানা, সদর উপজেলার গহরপুর গ্রামের আবুল মিয়ার মেয়ে রহিমা বেগম ও সদর উপজেলার খিতিবদিয়া গ্রামের জহুরা বেগম এবং ডাক্তার কামরুন নাহার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জয়িতা নির্বাচিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশে প্রথমবারের মত রাষ্ট্রীয়ভাবে সংগ্রামী নারীদের স্বীকৃতি দেয়া হলো। সমাজে তাদের অবদানকে স্যালুট করি। তাদের সংগ্রামে প্রেরণা পাবে হাজারো জয়িতা। প্রতিবছর এ সম্মননা প্রদান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ১০৪ বছর আগে প্রচলতি ছিল নারীদের ঘরের বাইরে যাওয়ার দরকার নেই পড়াশুনার দরকার নেই। আজও অনেকে মনে করেন চতুর্থ শ্রেণীর বেশি পড়াশুনার দরকার নেই। বেগম রোকেয়া ১৯০৯ সাল থেকে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। আজও নারীদের সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কাওসার পারভীন জানান, এবারই প্রথম সফল নারীদের সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে সংবর্ধনা প্রদানের আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শেয়ার