অভয়নগরে ফরিদ হত্যা মামলায় ১০ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট

লাবুয়াল হক রিপন॥
অভয়নগরের ব্যবসায়ী ফরিদ হোসেন হত্যা মামলায় ১০ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। জমিজমা ও নারী ঘটিত ঘটনার জের ধরে তাকে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে। এ মামলার অপর আসামি যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেন শিমুল খুন হওয়ায় তার নাম বাদ দেয়া হয়েছে। গতকাল ডিবি পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান যশোর আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। অভিযুক্তরা হলেন, খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার কৈখালী গ্রামের আব্দুস সামাদ, তার স্ত্রী রুমানা আক্তার কাঞ্চি, ধোপাদী গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে আক্তার হোসেন, কাদির পাড়া গ্রামের আব্দুল্লাহ’র ছেলে জিএম মামুন, বুইকারা গ্রামের সোরাব সরদারের ছেলে সোহেল রানা, সলেমানের ছেলে মনা পাটোয়ারী, হাসান আলীর ছেলে আরিফ হোসেন, মহাকাল গ্রামের আবু বক্কারের ছেলে আব্দুল মালেক, শুভরাড়া গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে নসু শেখ ওরফে নসু ডাকাত ও তরফদার পাড়া গ্রামের শীতল চক্রবর্তীর ছেলে শ্রীকান্ত লাল চক্রবর্তী।
সূত্রে জানাগেছে, অভয়নগর উপজেলার পুড়াখালী গ্রামের ওসমান মোল্লার ছেলে ফরিদ হোসেন নওয়াপাড়া বাজারে সারের ব্যবসা করতেন। ওই শহরে একটি জমি ক্রয় করাকে কেন্দ্র করে এলাকার শিমুলের সাথে তার বিরোধ বাধে। ফরিদ হোসেন গত পহেলা মে রাত ১২ টার দিকে রেল স্টেশন বাজার থেকে নিখোঁজ হন। ৫ মে বেলা ১১ টার দিকে পুলিশ নওয়াপাড়া শহরের সোহেলী সিনেমা হলের পাশে একটি নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে তার চার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা ওসমান মোল্লা অভয়নগর থানায় দু’জনের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
নওয়াপাড়া বাজারে একটি জমি ক্রয় করাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেন শিমুলের সাথে ব্যবসায়ী ফরিদ হোসেনের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে ফরিদকে হত্যার জন্য আব্দুস সামাদকে ব্যবহার করে শিমুল। পাশাপাশি ফরিদ নারী আসক্ত ছিল বলেও জানাগেছে। সে কারনে আব্দুস সামাদের স্ত্রী রুমানা আক্তার কাঞ্চিকে দিয়ে পহেলা মে ফরিদকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয় সামাদ। তাকে ওই রাতেই সকল আসামিরা কুপিয়ে খুন করে একটি প্লাষ্টিকের ড্রামে রেখে দেয় লাশ।
এদিকে জমিজমা ও নারী ঘটিত ঘটনায় ফরিদকে খুনের কথা স্বীকার করে ২৫ জুলাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সামাদ ও তার স্ত্রী কাঞ্চি। গতকাল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ১০ জনকে অভিযুক্ত এবং ঘটনার মূল নায়ক শিমুল দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হওয়ায় তার নাম বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে।
চার্জশিটে অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে নসু ডাকাত ও শ্রীকান্ত লাল চক্রবর্তী পলাতক রয়েছে। অন্যরা কারাগারে আছে।

শেয়ার