২৩ বছর ধরে জহুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলছে ভাড়া করা দোকানে

তবিবর রহমান ॥
যশোরের বাঘারপাড়ার জহুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে ভাড়া করা গুদাম ঘরে (দোকানে)। জহুরপুুর বাজারে পরিত্যক্ত ভবন ফেলে দুই কিলোমিটার দূরে বেতালপাড়া বাজারে একটি টিনশেডের ঘরে এখন অস্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদ। গত ২৩ বছর ধরে কখনও গুদাম ভাড়া নিয়ে, কখনও চেয়ারম্যানরা নিজ বাড়িতে এভাবে জনগণের সেবা দেয়া হচ্ছে।
খাজুরা বাজার থেকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সড়ক ধরে ৫ কিলোমিটার গেলে জহুরপুর ইউনিয়ন। এই বাজারের পাশে ৯০ শতক জমির উপর স্থাপিত হয় জহুরপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। কিন্তু সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ১৯৯০ সাল থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত রয়েছে। ইউনিয়নের মানুষকে সেবা দিতে যে ভবনটির দরজা চব্বিশ ঘন্টাই থাকে খোলা থাকে সেই পরিষদের ভবনই এখন সেবা বঞ্চিত হয়ে রুগ্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার বেতালপাড়া বাজারে টিনশেডের একটি গুদামে পরিষদের কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। ওই স্থানটি যে জহুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় তা বোঝার উপায় নেই। যেখানে বসে ইউনিয়নবাসীর সেবা দেয়া হচ্ছে সেটাও ব্যবহারের অনুপযোগীসহ রয়েছে সম্পূর্ণ অরক্ষিত। ছোট এ ঘরে প্রবেশপথে পাশাপাশি বসেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিব। মেম্বারদের বসার নেই আলাদা কোন জায়গা। রুমের পেছনের দিকে রয়েছে ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র। উদ্যোক্তরা সেখানে বসে জনগণকে ৫৭ প্রকার সেবা দেন। আর গ্রাম পুলিশরা রুমের সামনে দাঁড়িতে দায়িত্ব পালন করেন। এ পরিষদের সচিব কামরুজ্জামান তুহিন জানান, ভবন না থাকায় তাদের দুর্ভোগের অন্ত নেই। জনগণ পরিষদে সেবা নিতে ও বিপদের কথা বলতে আসেন। কিন্তু অনুকূল পরিবেশ না থাকায় তারাও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ২৩ বছর ধরে এভাবেই কার্যক্রম করতে হচ্ছে।
১৯৭৪ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, তার সময়ে কোন রকম পরিষদের নিজস্ব ভবনে কাজ চলতো। এরপর ১৯৯০ সাল থেকে ভবন পরিত্যক্ত হয়। সেসময়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল উপায় না পেয়ে বেতালপাড়া নিজ বাড়িতে পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় করেন। তখন থেকে চেয়ারম্যারা কখনও নিজ বাড়িতে, কখনও ভাড়া করা দোকানে বাধ্য হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় করেন।
এ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান দিন মোহাম্মদ দীলু পাটোয়ারী জানান, ২ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে একটি গুদাম ঘরে পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় করা হয়েছে। সেখানে কাগজপত্র রাখা যেমন অনিরাপদ তেমনি গ্রাম আদালত বসানো যায় না। এছাড়া সাধারণ মানুষ সেবা পেতে পরিষদে এলে তাদের বসতে দিতে পারেন না। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ করেছেন। চেয়ারম্যান দীলু পাটোয়ারী আরও জানান, জহুরপুরে পরিষদের নিজস্ব জমি রয়েছে। সরকার অর্থ বরাদ্দ দিলেই ভবন নির্মাণ সম্ভব। এজন্য তিনি অনেক আগেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নির্বাহী প্রকৌলশীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। এছাড়া তিনি ব্যক্তিগত পর্যায়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন।। কিন্তু কবে হবে পরিষদের নিজস্ব ভবন সেটা কেউ জানেন না।

শেয়ার