হাইওয়ে পুলিশ

খবরের কাগজ খুললেই যেন চোখে পড়ে হরতাল, অবরোধ আর নাশকতার খবর। চোখে পড়ে কোটি কোটি টাকা লোকসানের খবর। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং লোকশান কমাতে এ সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচীর মধ্যে রফতানি পণ্য বন্দরে পৌঁছাতে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে হাইওয়ে পুলিশ। সোমবার তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) আয়োজিত রাজনৈতিক অবস্থা ও স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টসে নাশকতামূলক অগ্নিসংযোগের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিষয়ে এক জরুরী মতবিনিময়কালে হাইওয়ে পুলিশের ডিজি মোহাম্মদ আসাদ এ কথা বলেন। ইতোমধ্যে কাজও শুরু করা হয়েছে। গৃহীত ব্যবস্থা অনুযায়ী রাত ১০টার মধ্যে পণ্য বোঝাই কাভার্ড ভ্যান কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত পৌঁছাবে। তারপর সেখান থেকে হাইওয়ে পুলিশের ব্যবস্থাপনায় রফতানি পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে দেয়া হবে। পোশাকশিল্পে বাংলাদেশের গর্ব যা ছিল তা আজ প্রায় বিপর্যয়ের পথে। প্রায়শই ঘটছে শিল্পে নাশকতার ঘটনা। সম্প্রতি স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের পুরো কারখানায় আগুন লাগায় দুষ্কৃতকারীরা। এই সোয়েটার কারখানার শুধু ১২শ’ কোটি টাকারই ক্ষতি হয়নি, ‘কারখানায় আগুনের কারণে ১৮ হাজার শ্রমিক আজ রাস্তায় ঘুরছে। স্ট্যান্ডার্ডই গাজীপুরের একমাত্র কারখানা যেখানে মজুরি নিয়ে সাম্প্রতিক মহাবিক্ষোভের সময়ও যার শ্রমিকরা কাজ ফেলে যায়নি। মজুরি, শ্রমিকদের নিরাপত্তাসহ সব অর্থই কারখানাটি কমপ্লায়েন্স (মানসম্পন্ন কর্মপরিবেশ) মেনে চলছিল গোড়া থেকেই। সেখানে এমন ঘটনা ঘটবে কেন? বোঝাই যায় এটা শ্রমিক বিক্ষোভের ফল নয়, পরিকল্পিত নাশকতা। এখানেও ঘটনার সঙ্গে জরিত হোতারা রামু ও সাঁথিয়ার মতো গুজব ছড়াতে মসজিদের মাইক ব্যবহার করেছে। তারা সড়ক অবরোধ করে কারখানাটিতে আগুন ছড়ানোর জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছে। শুধু গার্মেন্টস সেক্টরই নয়, গুজবের ডালপালা ছড়িয়ে সমাজের সম্প্রীতিময় পরিবেশও নষ্ট করা হচ্ছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও তাদের উপাসনালয়ের ওপর যত হামলার ঘটনা ঘটেছে তাতে কোন না কোনভাবে নেয়া হয়েছে গুজবের আশ্রয়। গুজব ছড়ানোর জন্য কখনও ব্যবহার করা হচ্ছে মসজিদের মাইক, কখনও ব্যবহার করা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি। বিশেষ করে মসজিদের মাইক ব্যবহার করার কারণে কেউ এটিকে গুজব বলে বিশ্বাস করতে পারে না। কিছুদিন আগে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার ও কারসাজির আশ্রয় গ্রহণ করে চাঁদে একজনকে দেখা গেছে এমন অবিশ্বাস্য কাহিনী প্রচার করে ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টাও চালানো হয়েছে। শুধু গুজবই নয়, হঠাৎ করেই আবার আসে অবরোধের ঘোষণা। এই অবরোধের কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় রাজশাহীর কাটাখালীতে ধান বোঝাই ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয় অবরোধকারীরা। শুধু তাই নয়, তারা ওষুধ ভর্তি পিকআপ ভ্যানেও আগুন ধরিয়ে দেয়, যা অমানবিকতার এক নিষ্ঠুর প্রকাশ। হরতাল অবরোধের মধ্যে পণ্য রফতানি যাতে ব্যাহত না হয় সে জন্য হাইওয়ে পুলিশের এই বিশেষ ব্যবস্থা প্রশংসনীয়। তবে এর জন্য ব্যবসায়ীদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। হাইওয়ে পুলিশের একার পক্ষে এ কাজ সম্ভব নয়। সময়মতো গাড়িগুলোকে পৌঁছানোর ব্যাপারে মালিক পক্ষকেও সহযোগিতা করতে হবে। তা না হলে রাত শেষ হওয়ার আগে সন্ত্রাসকবলিত এলাকাগুলো অতিক্রম করা একা পুলিশের পক্ষে কঠিন হয়ে যাবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাভার্ড ভ্যান না ছাড়লে নাশকতার সম্ভাবনাও থাকবে।

শেয়ার