তালায় নিচু বিলের অথৈই পানি॥ ইরি বোরো চাষ নিয়ে হতাশায় কৃষক

মুজিবুর রহমান, পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) থেকে॥ সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে ইরি বোরো চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কপোতাক্ষ নদ ভরাট হওয়ার কারণে গত কয়েক বছর ধরে তালার নিচু বিল সমূহে বছরের ৬-৭ মাস থাকে। কিছু এলাকা সারাবছর জলমগ্ন থাকে। এ বছর কপোতাক্ষ নদের উপছে পড়া পানিতে উপজেলার প্রায় এলাকা প্লাবিত হয়। এরফলে আমন চাষ হয়নি। হলুদ ও শাক সবজির ক্ষেতও পানিতে বিনষ্ট হয়েছে। কৃষকরা অনেক আশা করে ছিলেন ইরি বোরো চাষ হবে। কিন্তু পানি না সরার কারণে ইরি বোরো চাষেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অসহায় কৃষক বিলে পানি সেচে ফেলে বীজ তলা তৈরীর কাজ করছেন।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার শতকরা ৮০ ভাগ কৃষক সরাসরি কৃষি কাজের সাথে জড়িত। কৃষি কাজ করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু এখনো বিলে হাটু পানি, কোথাও অথৈই পানিতে ভাসছে ক্ষেত। সরকারীভাবে এসব বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না হলে চাষাবাদ করা সম্ভব হবে না। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় ১৬ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারীভাবে উপজেলার জলাবদ্ধ এলাকার বিলের পানি যদি সেচ বা পাম্পের মাধ্যমে জরুরী ভিত্তিতে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে অনেক এলাকায় চাষাবাদ করা সম্ভব হবে। জলাবদ্ধতার কারণে ধানদিয়া, নগরঘাটা, সরুলিয়া, কুমিরা, খলিষখালী, তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমি ইরি বোরো চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এসব বিলের পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। কৃষকরা বলছেন, ব্যক্তি উদ্যোগে পানি নিস্কাসনের যে উদ্যোগ শুরু হয়েছে তা অব্যাহত থাকলেও শতকরা ২৫ভাগ জমিও ইরিবোরো চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হবে না। পাটকেলঘাটা থানা কুমিরা ইউনিয়নের কৃষক গুরুপদ ঘোষ জানান, গত বছর পানি সেচ করে ৩৫বিঘা জমিতে ইরি চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু এ বছর তা সম্ভব হবে না। একই অভিযোগ করেন, ধলবাড়িয়া গ্রামের আনিছুর শেখ। তিনি বলেন, বিলের পানি এতই যে বোরো চাষাবাদ করা সম্ভব নয়। অপর দিকে নগরঘাটা ইউনিয়নের মনোরঞ্জন মন্ডল বলেন, হরিণখোলা বিলে পানি এতই জমে আছে যেকারণে ২০ভাগ জমিও চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে না। এ অবস্থায় জলাবদ্ধতা দ্রুত নিষ্কাশনে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। তা না হলে দক্ষিণ বিলে শাকদহ, নগরঘাটা, বিশ্বাসের আবাদ, কামারাবাদ, চাঁনডাঙ্গী, খাঁ’র আবাদ, ডুমুরির বিল একাকায় ইরিচাষাবাদ সম্ভব নয়। তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার জানান, ইরি বোরো চাষাবাদ করতে এবারও সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

শেয়ার