যশোর-৫ মণিরামপুর ॥ নৌকাহীন স্বপন ভট্টাচার্যের পথচলা মসৃণ নাকি বন্ধুর

Swpon
ইন্দ্রজিৎ রায়॥
উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে রীতিমত চমক সৃষ্টি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা স্বপন ভট্টাচার্য। দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী হলেও শেষ পর্যন্ত জোটেনি দলের টিকিট। তারপরও নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে এক চুলও সরেণনি তিনি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। নৌকাবিহীন আওয়ামী লীগের এই নেতার পথচলা মসৃণ নাকি বন্ধুর হবে তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।
২৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যতগুলো গণমাধ্যমে প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ হয়েছে তার প্রত্যেকটিতে যশোর-৫ আসনে স্বপন ভট্টাচার্যের নাম ছিল। কিন্তু দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ঘোষণায় উঠে আসে বর্তমান সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতানের নাম। তবে তৃণমূলের জনগণ মেনে নিতে পারেনি খান টিপু সুলতানকে। তার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মণিরামপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছে নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, বর্তমান সংসদ সদস্য এলকায় বারবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তার কাছে তৃণমূল নেতাকর্মীরা নিরাপদ নয়। একের পর এক জামায়াত-বিএনপির ক্যাডারদের হামলায় দলীয় নেতাকর্মীরা নাজেহাল হলেও তিনি এগিয়ে আসেননি। বরং নিজের নিরাপত্তা নিয়েই বেশি ব্যস্ত থেকেছেন। তাই এবার এলাকার জনগণ নতুন মুখ চান। মণিরামপুরবাসীর জন্য এবার দু’জন নতুন মুখ মাঠে নেমেছেন। তাদের একজন স্বপন ভট্টাচার্য এবং অপরজন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল হাসান বারী। তৃণমূলের মতামতে এগিয়ে ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন ভট্টাচার্য। দলীয় মনোনয়ন দৌঁড়ে তিনিই ছিলেন প্রথম স্থানে। এতে জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়। তবে শেষ মুহূর্তে নিরাশ হয়েছেন নেতাকর্মীরা। তাই পছন্দের প্রার্থীকে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছেন। তৃণমূলের মতামতের প্রতি আস্থা রেখেই উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে প্রার্থী হয়েছেন স্বপন ভট্টাচার্য। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সমাজের কথাকে বলেন, তার এ পদত্যাগ একটি প্রতিবাদ। এর মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে।
স্বপন ভট্টাচার্যের দৃঢ় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সুধী মহল। চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তৃণমূলের আশা আকাঙ্খা কতটুকু পূরণ করতে পারবেন সেটা নিয়েই মূলত আলোচনা সমালোচনা চলছে। নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের কেমন কাছে পাবেন নাকি গাছে তুলে দিয়ে মই কেড়ে নেয়ার মত হবে। তা নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

শেয়ার