মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ওলামা লীগ নেতাকে পিটিয়ে জখম করেছে শিবির ॥ সাতক্ষীরায় যৌথবাহিনীর সাথে জামায়াত শিবির সংঘর্ষে দু’জন নিহত ॥ যুবলীগ কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা ওসিসহ আহত-৩০ ॥ আজ সকাল সন্ধ্যা হরতাল

সাতক্ষীরা ও দেবহাটা প্রতিনিধি ॥ সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়কের ভাড়াশিমলা মোড়ে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ-বিজিবি, র‌্যাবের টহল দলের সাথে অবরোধকারীদের সংঘর্ষে হোসেন আলী ও আরিজুল ইসলাম নামে দুই শিবির কর্মী নিহত হয়েছে। এঘটনায় আরো ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনার সময় কালিগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিপ্লব সাহা ও অপর তিন পুলিশ সদস্যসহ কমপে ২০জন আহত হয়েছে। এঘটনার প্রতিবাদে সকাল-সন্ধ্যার হরতালের ডাক দিয়েছে জেলা জামায়াত। অপরদিকে এদিন বিকেলে সাতীরার ভোমরা সড়কের মাহমুদপুর এলাকায় অবরোধকারিরা মো. গিয়াসউদ্দীন (৩০) নামে এক যুবলীগ কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করে। তিনি শহরের ইটাগাছার মানিকতলা এলাকার মনিরুদ্দীন মুহুরীর ছেলে। একই দিন সাতীরার বাশদহা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্য ও সদর উপজেলা ওলামা লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল ওহাবকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে জামায়াত-শিবির। মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে আগরদাড়ী বাজারে পৌছালে তার ওপর হামলা করা হয়। জিআই পাইপ দিয়ে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে হাত ও পা ভেঙ্গে দেয় শিবির ক্যাডাররা।
কালিগঞ্জ সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার তাজুল ইসলাম জানান, সাতীরা-কালিগঞ্জ মহাসড়কের ভাড়াশিমলা মোড়ে অবরোধকারীদের ফেলে রাখা গাছের গুড়ি অপসারণ করতে গেলে পুলিশ-বিজিবি-র‌্যাবের সমম্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীকে ল্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে অবরোধকারীরা। এ সময আতœরক্ষায় পুলিশ শতাধিক রাউন্ড পাল্টা গুলি ছোড়ে। গুলিতে দেবহাটার গাজীরহাটের আতাপুর গ্রামের হাফেজি মাদ্রার ছাত্র হোসেন আলী ও গরানবাড়িয়া গ্রামের আরিজুল ইসলাম নামের দু’শিবির কর্মী নিহত হয়। নিহত আরিজুল ওই গ্রামের ছফেদ আলীর ছেলে। সে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। এছাড়াও পুলিশের সাথে জামায়াত শিবিরের সংঘর্ষে আহত হয় আরিফুল ইসলাম, ইব্রাহীম হোসেন, মেয়ারাজ হোসেন, রবিউল ইসলামসহ ৮ জন। তাদের সবাই কালিগঞ্জ থানার ভাড়া শিমলা ইউনিয়নের বাসিন্দা। দেবহাটা থানার গরানবাড়ীয়া ও সখিপুর গ্রামের হাসান, আব্দুল্লাহ, রশিদ মোল্লাসহ আরও ১২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জেলা জামায়াতের দেয়া বিজ্ঞপ্তিতে দাবী করা হয়। এঘটনার প্রতিবাদে জেলা জামায়াত আজ পূর্ণদিবস হরতার ও শুক্রবার দোয়া দিবসের কর্মসূচি ঘোষনা করেছে। এঘটনায় পুরো জেলা জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকায় যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। এদিকে নিহত যুবলীগ কর্মী গিয়াস উদ্দিনের চাচাতো ভাই নজরুল ইসলাম জানান, ভোমরা থেকে মটরসাইকেলযোগে সাতীরার উদ্দেশ্যে আসছিলেন গিয়াসউদ্দীন ও তার এক বন্ধু। মাহমুদপুর তালবাড়িয়ার মোড়ে আসলে কয়েকজন অবরোধকারি তাদের পথরোধ করে মটরসাইকেল থেকে নামিয়ে গিয়াসউদ্দীনকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে গুরুত্বর জখম করে। এসময় ঘটনাস্থলেই গিয়াসউদ্দীনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি বুঝে সঙ্গে থাকা বন্ধু পালিয়ে প্রাণে রা পায়।
সাতীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইনামুল হক গিয়াসউদ্দীনকে হত্যার ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, অবরোধকারিরা তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এব্যাপারে রাতে মামলা হবে।
এদিকে সাতীরার বাশদহা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্য ও সদর উপজেলা ওলামা লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল ওহাবকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে জামায়াত-শিবেরর কর্মীরা। মঙ্গলবার সকালে তিনি তার গ্রামের বাড়ী সদর উপজেলার কাশেমপুর থেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে আগরদাড়ী বাজারে পৌছালে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা জিআই পাইপ দিয়ে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করে। এতে তার দু’হাত ও বাম পাঁ ভেঙ্গে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাতীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থা আশংকা জনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সার্বিক বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরি জানান, পুলিশ বিজিবিসহ যৌথ বাহিনীর উপর জামায়াত শিবিরের হামলার ঘটনায় রাতে স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের করা হবে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুই শিবির কর্মীর মৃত্যুর বিষয়ে তিনি জানান, যেহেতু আমাদের কাছে কোন ডেট বডি নেই সেহেতু মৃত্যুর বিষয়টি জানিনা।

শেয়ার