লঞ্চ-ফেরি ডোবানোর নির্দেশ দেয়া হচ্ছে

Pm
সমাজের কথা ডেস্ক॥ দেশজুড়ে নাশকতার মধ্যে লঞ্চ ও ফেরি ডুবিয়ে দেয়ারও ‘নির্দেশ দেয়ার তথ্য’ সরকারের কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার গাজীপুরে কোনাবাড়িতে ‘নাশকতার’ আগুনে পুড়ে যাওয়া স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের কারখানা কমপ্লেক্স পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
তিনি বলেন, “লঞ্চ আর ফেরি ডুবিয়ে দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। এই তথ্য আমাদের কাছে আছে। তথ্য-প্রযুক্তির যুগে কিছু লুকিয়ে রাখা যায় না।”
তফসিল প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের দুই দফা অবরোধে সহিংসতায় ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে গাড়িতে ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে।
চলন্ত বাসে পেট্রোল বোমায় মানুষ হতাহত হয়েছে। হাতবোমার বিস্ফোরণে হতাহত হয়েছেন অনেকেই। মহাসড়কে চলছে ধারাবাহিক তাণ্ডব। নাশকতা চলছে রেলপথ ধরেও।
এসব নাশকতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “যারা আগুন নিয়ে খেলছে, আমরা যদি সম্মিলিতভাবে দাঁড়াই তাহলে আর কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস পাবে না।”
গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাইকে লোক জড়ো করে কোনাবাড়ির জরুন এলাকায় স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের কারখানা কমপ্লেক্সের তিনটি ভবন ও দুটি শেডে ভাংচুর করে আগুন দেয়া হয়।
আগুনে একটি ১০ তলা ও দুটি ছয় তলা ভবনের প্রায় সব মালামাল পুড়ে যায়। রপ্তানির জন্য তৈরি পোশাক বোঝাই সাতটি কভার্ড ভ্যানসহ প্রতিষ্ঠানের মোট ৩১টি গাড়িতেও আগুন দেয়া হয়।
নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই এলাকার মানুষ, শ্রমিক-মালিক সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
এই ধরনের নাশকতায় প্ররোচনা দাতাদের সম্পর্কে কারো কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “পরিকল্পনা করে এই ধ্বংস চালানো হয়েছে। এটা পূর্বপরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ।
“যারা এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তাদের আমরা ছাড়বো না।তাদের আমরা ছাড়তে পারি না। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
শেখ হাসিনা বলেন, পোশাক কারখানায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর পাশাপাশি মালিক ও শ্রমিকদেরও ছোট ছোটা গ্রুপ করে কারখানায় পাহারার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরামউদ্দিন আহমদ ও সাবেক সভাপতি আনিসুল হক, পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন বাবলু ও স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার