লোক ভাঁড়া করে শো ডাউন দেয়া গেলেও তীরে নৌকা ভেঁড়ানো কঠিন হবে ॥ নৌকার টিকিট বাগিয়ে যশোরে চশমা লীগের আনন্দ মিছিল ॥ প্রার্থী বদলের দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের

অমিয় ঘোষ ॥
নৌকার টিকিট বাগিয়ে আনন্দ মিছিলের মাধ্যমে যশোরে ফের যাত্রা শুরু করলো চশমা লীগ। সম্মুখভাগে থেকে এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন বহুল আলোচিত দলের সেই সুবিধাবাদি চক্রটি। এক যুগেরও বেশি সময় পর গতকাল রোববার নৌকার মিছিলে চক্রের সদস্যদের দেখে হতবাক হন যশোরের মানুষ। মিছিলটিতে আওয়ামীলীগসহ সহযোগী সংগঠনের পরীক্ষিত কোন নেতা কর্মীর অংশ গ্রহণ ছিল না। শহরে গুঞ্জন ছিল গ্রামাঞ্চল থেকে ভাঁড়া করা লোক এনে চশমা লীগের হোতারা তাদের শক্ত অবস্থানের প্রমাণ দেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। ঘটনাটি ছিল গতকাল টক অব দ্যা টাউন। রাজনীতি সচেতনমহলের অভিমত ভাঁড়া করা লোক নিয়ে শো ডাউন দেয়া সম্ভব হলেও দলের মুল স্রোতের সাথে সম্পৃক্ত কর্মী সমর্থকদের পাশ কাটিয়ে তীরে নৌকা ভেঁড়ানো কঠিন হবে। এদিকে ক্ষোভ বিক্ষোভে দুমড়ে মুষড়ে পড়েছেন রাজপথের ত্যাগী কর্মী সমর্থকরা। তৃণমুল নেতৃত্বেও সমান প্রভাব পড়েছে। তারা যশোরের স্থানীয় জনপ্রিয় ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা শাহীন চাকলাদারকে প্রার্থী করে আ.লীগের দুর্গ সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০০১ সালের নির্বাচনে নাবিলের পিতা কাজী শাহেদ আহমেদ যশোর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হতে না পেরে চশমালীগ করে ভোটযুদ্ধে নামেন। তার নির্বাচন পরিচালনায় অন্যতম সৈনিক ছিলেন এড. শরীফ আব্দুর রাকিব, মোহিত কুমার নাথ ও ছাত্রলীগের সুখেন মজুমদারসহ হাতে গোনা কয়েক নেতা। অর্থের লোভে ডিগবাজির মাধ্যমে তারা দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেয়ায় দলটির তৃণমুল পর্যায়ে বিভক্তি দেখা দেয়। তার প্রভাব পড়ে জেলার সব’কটি নির্বাচনী আসনে। ফলে ওই নির্বাচনে আ.লীগের জেলা সভাপতি আলী রেজা রাজুসহ ৬টি আসনের ৫টিতেই দলীয় প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। তবে তা নিয়ে মোটেও অনুতপ্ত অনুশোচনা ছিল না কাজী শাহেদ আহমেদসহ তার সহযোগী সুবিধাবাদি চক্রের। বিজয়ী জোট প্রার্থী তরিকুল ইসলামকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে কাজী শাহেদ আহমেদ সর্ব প্রথম তার বাড়িতে যান। সেই থেকে যশোর আ.লীগের মুলধারা থেকে ছিটকে পড়েন রাকিব, মোহিত, সুখেনসহ চশমালীগের হোতারা। তবে তারা বসে থাকেননি। অভিযোগ রয়েছে এ সময়কালে নাবিলের কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক বেতন-ভাতা নিয়েছেন অনেকে। কেউ কেউ সাত ঘাটের পানিও খেয়েছেন। এক নেতা ছেড়ে আরেক নেতার আশ্রয় প্রশয়ে পুষ্ট হয়েছেন। তবে এই চক্রটি মুলধারা থেকে ছিটকে পড়ায় ২০০৮ সালের নির্বাচনে কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তাদের উল্টো স্রোতে চলার পরও জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের কৌশলী ভুমিকার কারণে যশোরের সব’কটি আসনে আ.লীগ প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। বিএনপি-জামায়াত জোটের কবল থেকে পুনরুদ্ধার হয় যশোর। উপজেলা নির্বাচনেও এ অঞ্চলে আ.লীগ প্রার্থীরা বিজয় ছিনিয়ে আনে। কিন্তু এবার সেই চশমালীগের হাতে দলের হাইকমান্ড নৌকার টিকিট তুলে দেয়ায় দলে ক্ষোভ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল রোববার ঢাকার বাসিন্দা নাবিলের পক্ষে যশোর শহওে আনন্দ মিছিল বের করে চশমালীগের সেই আলোচিতরা। মিছিলের সম্মুখভাগে সাত ঘাঁটের পানি খাওয়া সুবিধাবাদি চক্রটির নেতৃত্ব দিতে দেখে হতবাক হন যশোরের মানুষ। এই দৃশ্য দেখে কেঁদেছেন রাজপথের পরীক্ষিত কর্মী সমর্থকদের অনেকে। বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন শোনা যায়, গ্রাম থেকে লোক ভাঁড়া করে এনে মিছিল করেছে চশমালীগের হোতারা। এতে চক্রের হোতাদের পকেট ভারী হলেও তাদের ওপর ভর করে তীরে নৌকা ভেঁড়ানো কঠিন হবে বলে মনে করছেন সচেতনমহল। এর প্রভাব পড়তে পারে যশোরের সবক’টি আসনেই। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী বদলের জন্য খোদ সভানেত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্ব।

শেয়ার