বাগেরহাট ৪ আসনে আ’লীগে দ্বন্দ্ব বেড়েই চলেছে॥ বর্তমান এমপি ডা. মোজাম্মেল’র বিরুদ্ধে দলীয় একাধিক প্রার্থী মাঠে নামছে

বাগেরহাট প্রতিনিধি॥ বাগেরহাট-৪, মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা আসনে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হিসেবে আওয়ামী লীগেরই একাধিক নেতা নির্বাচনে নামছেন। দলের নমিনেশন নিয়ে নির্বাচনে আসছেন বর্তমান এমপি বাগেরহাট জেলা আ. লীগের সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেন। প্রতিপক্ষ হচ্ছেন জেলা আ. লীগের সহসভাপতি ড. আব্দুর রহিম খান। এছাড়া পৌর মেয়র মনিরুল হক তালুকদার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নামতে পারেন বলে গুঞ্জন চলছে। অপর দিকে জাতীয় পার্টি(এরশাদ) থেকে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা জাপা সভাপতি সোমনাথ দে।
মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-৪ আসন। এখানে মোট জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ। ভোটার সংখ্যা বর্তমানে দুই লক্ষাধিক। এ আসনে আওয়ামী লীগের ডা. মোজাম্মেল হোসেন ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে এমপি হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন জামায়াতের মুফতি সাত্তারের কাছে।
আসছে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তাকে প্রার্থী করেছে আ. লীগ। বিএনপি নির্বাচনে না আসলেও এবারের নির্বাচনে ডা. মোজাম্মেলকে দিয়ে আসন রক্ষা হবেনা বলে মনে করছে অনেকে। বিগত মেয়াদকালে এ এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোন উন্নয়ন হয়নি। দলের মধ্যে বেড়েছে দ্বন্দ্ব গ্রুপিং। অসংখ্য নেতাকর্মী মামলায় ভূগছে। এ সব দিক বিবেচনা করে আসনটি নিজেদের দখলে রাখার লক্ষ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকার ঘোষনা দিয়েছেন ড. আব্দুর রহিম খান। আজ সোমবার তিনি মনোনয়ন ফর্মর জমা দিবেন বলেও নিশ্চিত করেছেন। সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি জেলা আ. লীগের সহসভাপতি রহিম খান ২০০৯ সালে নির্বাচনেও দলীয় নমিনেশন পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ওই সময় ডা. মোজাম্মেল হোসেনের অনুরোধে তিনি বিরত থাকেন।
অপরদিকে আওয়ামী কোন্দলের সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছেন জাতীয় পার্টির সোমনাথ দে। প্রার্থী হিসেবে এটি তার জীবনের প্রথম নির্বাচন। উপজেলা জাপা সভাপতি তরুণ নেতা সোমনাথ জাতীয় পার্টির খুব পুরানো লোক না হলেও পার্টির জন্য তার অবদান অনেক। মোরেলগঞ্জ শরণখোলায় দলকে সুসংগঠিত করতে গত দু’বছর ধরে তিনি এলাকায় অনেক কাজ করেছেন। আসছে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কলহ, গ্রুপিং তার জন্য সুফল বয়ে আনবে বলে তিনি মনে করেন।

শেয়ার