ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন না দেয়ায় ক্ষোভের আগুনে জলছে যশোর ॥ রফিকুলের স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোষণা ॥ তালিকায় আছেন আরো অনেকে

jessore
প্রত্যয় জামান ॥
স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা দল বদলের চিন্তা ভাবনা করছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা। এই তালিকায় যশোরে এ পর্যন্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রী রফিকুল ইসলামসহ ক্ষমতাসীন দলের দু’জন সংসদ সদস্যর নাম শুনা যাচ্ছে। এর বাইরে বিএনপি-জামায়াত থেকেও স্বতন্ত্র প্রার্থী দেয়ার আভাস পাওয়া গেছে।
যশোর সদরসহ কয়েকটি আসনে ত্যাগী জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন না দেয়ায় ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি কোন কোন নির্বাচনী এলাকায় হরতালের মত কর্মসূচি দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয় থেকে ২৯৮টি আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। এই তালিকায় যশোরে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন সাবেক আইসিটি মন্ত্রী ও হুইপসহ যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য। সংসদীয় আসনে যশোর-২ ঝিকরগাছা-চৌগাছা আসনে সাবেক আইসিটি মন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদের পরিবর্তে ওই আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির। যশোর-৩ সদর সংসদীয় আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য খালেদুর রহমান টিটোর পরিবর্তে মানোনয়ন পেয়েছেন চশমা লীগ খ্যাত কাজী নাবিল আহমেদ। অন্যদিকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন হুইপ অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল ওহাবও। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি যশোর-৬ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু আসন বিন্যাস পূর্বের অবস্থানে ফিরে যাওয়ায় তিনি তার নিজ নির্বাচনী এলাকা যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) থেকে দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু দল তাকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দিয়েছেন বর্তমান এমপি রণজিত কুমার রায়কে। যশোরের গুরুত্বপূর্ণ ৩টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন এবং জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন না দেয়ায় পুরো দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। নির্বাচনী আমেজের পরিবর্তে এসব এলাকায় এখন জ্বলছে ক্ষোভের আগুন। এ অবস্থায় গতকাল এক সমাবেশে যশোর-২ সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। লাইনে আছেন হুইপ আব্দুল ওহাবসহ অন্য সংসদ সদস্যরা। অভয়নগর আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন জনদাবির মুখে প্রার্থী পরিবর্তন করা না হলে তারা অধ্যক্ষ আব্দুল ওহাবকে স্বতন্ত্র প্রার্থী করে ভোট যুদ্ধে নামবেন। অন্যদিকে জামায়াত এবং বিএনপি শিবির থেকেও এমন আভাস পাওয়া গেছে।
সূত্র মতে, জামায়াত জেলার ৬টি আসনে এবং বিএনপি থেকে অন্তত ৪টি আসনে স্বতস্ত্র প্রার্থী দেয়ায় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। যার মধ্যে যশোর-২, যশোর-৪ এবং যশোর-৫ সংসদীয় আসনে বিএনপি ঘরানার স্বতস্ত্র প্রার্থীদের গ্রিণ সিগনালও দেয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি’র এক নেতা বলেছেন শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হলে একেবারে ফাঁকা মাঠে আওয়ামী লীগকে গোল দিতে দেওয়া হবে না। তাদের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সাথে লড়াই করে পার হতে হবে নির্বাচনী বৈতরণী।

শেয়ার