যশোরে মনোনয়ন পুনঃবিবেচনার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন ॥ শাহীন চাকলাদারের পক্ষে মনোনয়পত্র সংগ্রহ

mononoyon
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর-৩ সদর আসনে জনবিচ্ছিন্ন ও চশমালীগকে দলের মনোনয়ন দেয়ায় তুষের আগুনে দগ্ধ হচ্ছে আওয়ামী ঘরাণার মানুষ। একজন অতিথি পাখিকে নিয়ে কিভাবে তারা নৌকা তীরে ভেড়াবেন তা নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। এই অর্ন্তদাহ থেকে তারা মনোনয়ন পুনঃবিবেচনার দাবিতে মাঠে নেমেছেন এবং শনিবার অবস্থান কর্মসূচি করেছেন। এদিন সকাল থেকে শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের পক্ষের নেতাকর্মীরা সদর আসনের জন্য মনোনয়ন দাবিতে কর্মসূচি পালন করে। এছাড়া অবস্থান কর্মসূচি শেষে এ আসন থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারের পক্ষে দলের নেতাকর্মীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাকর্মীরা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে এ মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন দপ্তর সম্পাদক মীর জহুরুল ইসলাম।
শুক্রবার সন্ধ্যায় যশোর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির যুগ্ম সম্পাদক কাজী নাবিল আহম্মেদকে মনোনয়ন ঘোষণা দেয়ায় শুরু হয় উত্তেজনা। শাহীন চাকলাদারকে সদর আসনে মনোনয়ন না দেয়ায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিক মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে। এছাড়া শনিবার থেকে লাগাতার শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। এরই অংশ হিসেবে প্রথমদিন শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্ত অবস্থান নিয়ে মাইকে তাদের ক্ষোভ ও বেদনার কথা তুলে ধরেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আফজাল হোসেন বক্তব্যে বলেন, ২০০৩ সাল থেকে রাজপথের সংগ্রামী নেতা শাহীন চাকলাদারকে মনোনয়ন না দিয়ে অতিথি পাখি ও স্থানীয় জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন কাজী নাবিল আহম্মেদের নাম ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এতে যশোরের নেতা কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছে। তাই দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি পুনরায় বিবেচনার অনুরোধ জানান তিনি। অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মীর জহুরুল ইসলাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক খয়রাত হোসেন, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল খালেক, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাড. আসাদুজ্জামান আসাদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদের, উপ প্রচার সম্পাদক ফারুক আহম্মেদ কচি, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আসিফ উদ দ্দৌলা সরদার অলক, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক খায়রুজ্জামান খসরু, সদস্য রেজাউল ইসলাম রেজা, শহর শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন সিদ্দিকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসান লাল, সদর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শাহারুল ইসলাম, শহর আওয়ালীগ নেতা গোলাম মোস্তফা, জাকির হোসেন রাজিব, জেলা যুবলীগের সহসভাপতি মুনির হোসেন টগর, প্রচার সম্পাদক জাহিদ হোসেন মিলন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এহসানুল হক লিটু, সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম, জেলা যুবমহিলা লীগের সভাপতি মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালী, সাধারণ সম্পাদক শেখ রোকেয়া পারভীন ডলি, পরিবহনসংস্থা শ্রমিক সমিতির সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম মাহমুদ হাসান বিপু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জুয়েল, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল, সহসভাপতি নিয়ামত উল্লাহ, সাইদুজ্জামান বাবু, জাবের হোসেন জাহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির শিপলু, তরিকুল ইসলাম জনি, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী তৌহিদুর রহমান জুয়েল, ক্রীড়া সম্পাদক মাসুদুর রহমান মিলন, অর্থ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, শিক্ষা ও পাঠচক্র মেহেদি হাসান রনি, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক রওশন ইকবাল শাহী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক সজিবুর রহমান, সাহিত্য সম্পাদক সাগর রহমান, উপ গণযোগাযোগ সম্পাদক সবুজ বিপ্লব, সদস্য এসএম জাবেদ উদ্দিন, আলমগীর হোসেন, ইয়াসিন কাজল, সালসাবিল আহম্মেদ, পুরাতন হল শাখার সভাপতি আলমগীর হোসেন বিদ্যুৎ ও সাধারণ সম্পাদক অনুপ সরমা প্রমুখ। এছাড়া শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ এসে শামিল হন এ আন্দোলনে। তাদের মুখে একই দাবি যোগ্য ও ত্যাগী নেতা শাহিন চাকলাদারকেই মনোনয়ন দেয়া হোক।

শেয়ার