মাগুরায় বিবাদমান দুটি গ্রুপের সংঘর্ষে দু’যুবক নিহত ॥ বাড়ি ভাংচুর লুটপাট ঠেকাতে পুলিশের গুলি ॥ ইউপি চেয়ারম্যান আটক

মাগুরা প্রতিনিধি॥ মাগুরার মালিক গ্রামে বিবাদমান দুটি গ্রুপের সংঘর্ষে ফরিদ ও নাইম নামে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃতু্যূ হয়। গুরুতর আহত আরও ৪ জনের অবস্থা শঙ্কটজনক। গতকাল শনিবার তাদের নিহত হওয়ার খবর গ্রামে পৌঁছালে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিতরা অন্তত: ২৫টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। শুক্রবার একই গ্রামে বিয়ের দাওয়াত খেতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতরা ছাত্রলীগের কর্মী বলে দাবি করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রুবেল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অনন্ত: ২৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। এ সময় চাউলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলামকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও গ্রামবাসী জানায়, সদর উপজেলার মালিকগ্রামের মাতবর তকব্বার বিশ্বাস-ওসমান মোল্যার সাথে একই গ্রামের খলিল মোল্যা ও ওহিদ মেম্বরের এলাকায় আধিপত্য নিয়ে দির্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জের ধরে গত ১৫ নভেম্বর ওহিদ মেম্বরের সমর্থক মঞ্জুর মোল্যার ৭ বছরের শিশুকন্যা বন্যাকে ওসমান মোল্যার সমর্থকরা কুপিয়ে জখম করে। ওই ঘটনায় ২১ জনের নামে মামলা হয়। মামলাটি চলমান এই বিরোধের আগুনে ঘি ঢালে। আসামীরা সুযোগে ছিল। শুক্রবার বিকালে তকব্বার বিশ্বাস-ওসমান মোল্যা সমর্থিতরা একই গ্রামের খালেক বিশ্বাসের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যায়। বিয়ে খেতে যায় খলিল-ওহিদ মেম্বর সমর্থকরাও। শিশু জখম মামলার আসামীরা কোনকিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রতিপক্ষদের ওপর হামলা চালায়। এতে ফরিদ হোসেন (২২), নাইম (২৬), উজ্জল বিশ্বাস (২৫), সোহাগ (৯), হিরোক (২৮), শিমুল (২৪) গুরুতর আহত হন। আহতদের মাগুরা হাসপাতালে ভতিৃল র পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন রাত ফরিদ ও ঢাকায় নেয়ার পথে শনিবার সকালে নইম মারা যান। মালিক গ্রামের মিরন, মামুনসহ আরো অনেকে দুটিপক্ষের দির্ঘদিনের বিরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা জানান, গতকাল সকালে ফরিদ এবং নাইমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের সমর্থকরা বেলা ১১টার দিকে প্রতিপক্ষের অন্তত ২৫টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। এ ঘটনায় মদদ দেয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলামকে আটক করেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল হাশেম চেয়ারম্যানকে আটক করার কথা স্বীকার করেছেন। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করেছে। পরিস্থিতি স্বান্ত রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শেয়ার