ঝিকরগাছায় স্কুল ছাত্র মিরাজ হত্যা॥ আরো এক আসামি আটক হত্যার আলমত উদ্ধার

লাবুয়াল হক রিপন॥
ঝিকরগাছায় স্কুলছাত্র রিয়াজুল ইসলাম মিরাজকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গেঞ্জি ও চাকু উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সাথে ঘটনার সাথে জড়িত রাশেদা বেগম জোনাকী নামে এক গৃহবধূকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া মুক্তিপণের টাকা দিতে দেরি হওয়া এবং ঘাতকদের চিনে ফেলায় তাকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে আটক অপর চার আসামি। গতকাল যশোরের পৃথক দু’টি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তারা এ কথা স্বীকার করে।
জানাগেছে, ঝিকরগাছার লাউজানী গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে জাহিদ হাসান মিলন একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। দুই বছর আগে ঝিকরগাছা উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের মিজানুর রহমান বাড়িতে নতুন বিল্ডিং নির্মাণ করে। মিলন এ সময় মিজানুর রহমানের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় মিজানুরের পরিবারসহ তাকে খুন গুমসহ নানা ধরনের হুমকি দিতে থাকে। বিষয়টি জানাজানি হলে মিলন এলাকায় বেশ খানিকটা হেয় প্রতিপন্ন হয়। মিলন ওই ঘটনার জের ধরে মিজানুর রহমানের একমাত্র ছেলে রিয়াজুল ইসলাম মিরাজকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের পরিকল্পনা করে। ১৬ নভেম্বর রাত সাত টার দিকে লাউজানী এমএন স্কুল মাঠে মিলনের নেতৃত্বে শাহীন, সোহাগ, মামুন ও রুবেলকে নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বৈঠক করে। ২০ নভেম্বর বিকেলে মিরাজকে ঝিকরগাছা বিএম হাই স্কুল মাঠ থেকে অপহরণ করে। তাকে নিয়ে সদর উপজেলার নারাঙ্গালী গ্রামের হযরত আলীর স্ত্রী মিলনের চাচাতো বোন রাশেদা বেগম জোনাকীর বাড়িতে রাখে। এর পর মিলনের নির্দেশে তার সহযোগী মতিউর ও আরিফকে দিয়ে মিরাজের পিতার কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তবে এর আগে মিরাজ চিনতে পেরে তার বাম হাতে কলম দিয়ে ওই সকল ঘাতকদের নাম লেখে। নাম লেখার বিষয়টি মিলন দেখে ফেলে। টাকা দিতে দেরি করায় এবং ঘাতকদের চিলে ফেলায় ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় খাবারের সাথে পর্যাপ্ত পরিমানে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাওয়ায়। মিরাজ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অচেতন হয়ে পড়লে নারাঙ্গালী গ্রামের মাঠের মধ্যে একটি খাল পাড়ে নিয়ে যায়। এর পর মিলনের পরনের গেঞ্জি দিয়ে মিরাজের গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। মিরাজকে হত্যা করার পর দিন তার পিতার দেয়া ৮ হাজার টাকা দুই কিস্তিতে পৃথক দু’টি বিকাশ এজেন্টদের কাছ থেকে ঘাতকরা তুলে নেয়। ঝিকরগাছা বাজারের তানভীর বস্ত্র বিতান থেকে ৫ হাজার এবং দত্তপাড়া বাজারের রবির দোকান থেকে ৩ হাজার টাকা তারা উত্তোলন করে। পরে বিকাশ এজেন্টে ব্যবহৃত তাদের সেই মোবাইল সিমকার্ডটি ভেঙ্গে ফেলে। এ ঘটনার মূল হোতা মিলনসহ দু’জনকে পুলিশ ২৫ নভেম্বর আটক করে। ২৭ নভেম্বর র‌্যাব সদস্যরা এ ঘটনার সাথে জড়িত অপর চারজনকে আটক করে। তারা হলো, মামুন চৌধুরী মুকুল, মতিউর রহমান, মহসীন রেজা শাহীন ও আরিফুল ইসলাম। এরা ৪ জন গতকাল আদালতে মিরাজকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়। ডিবি পুলিশের এসআই শরীফ হাবিবুর রহমান ওই ৪ জনের জবানবন্দি মতে শুক্রবার রাতে রাশেদা বেগম জোনাকীকে তার বাড়ি থেকে আটক করে। মিরাজকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু ঘটনাস্থল থেকে এবং মিলনের পরিহিত গেঞ্জি উদ্ধার করে।
এদিকে আটক রাশেদা বেগদ জোনাকী বাড়িতে মিরাজকে নিয়ে রাখা এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রাথমিক ভাবে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

শেয়ার