ক্ষোভের আগুনে পুড়ছে যশোর আওয়ামীলীগ॥ নাবিল দলের জন্য অশনি সংকেত !

bikhob
অমিয় বিশ্বাস ॥
অপ্রত্যাশিত মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভের আগুনে পুড়ছে যশোর আওয়ামীলীগ। দলের দুর্দদিনের কাণ্ডারী, রাজপথের পরীক্ষিত নেতা, যশোর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন চাকলাদারকে মনোনয়ন বঞ্চিত করায় ক্ষোভ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে দলটির নেতা কর্মী ও সমর্থকরা। একদম তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভের আগুন। কেউ-ই নৌকার প্রার্থী হিসেবে ঢাকার বাসিন্দা নাবিল আহমেদকে মানতে পারছেন না। অনেকেই বলছেন অতিথি পাখির মতো উড়ে এসে জুড়ে বসা নাবিল আওয়ামীলীগের দূর্গ যশোরের জন্য এক অশনি সংকেত। তার প্রমাণও মেলে গতকাল শনিবারে। এদিন ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচির বিরুদ্ধে আ.লীগের কোন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাঠে অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। ফাঁকা মাঠ পেয়ে জামায়াত-বিএনপি’র ক্যাডাররা যশোর শহরসহ বিভিন্ন স্থানে আ.লীগ নেতাকর্মীসহ তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়ে উল্লাস করেছে। অপ্রত্যাশিত এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণসহ দলের স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে যশোরের এই আসনটিতে প্রার্থী মনোনয়নে পুন: বিবেচনা করা উচিত বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আওয়ামীলীগের ধানমন্ডি কার্যালয় থেকে শুক্রবার বিকেলে সারাদেশের মতো যশোরের ৬টি আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ঘোষণায় দেখা যায়, যশোর-৩ (সদর) আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঢাকার বাসিন্দা কাজী নাবিল আহমেদকে ঘোষণা করা হয়েছে। এ খবরে তাৎক্ষনিক যশোর শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষুব্ধ কর্মী সমর্থকরা মিছিলের পর মিছিল নিয়ে রাজপথে নেমে আসে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে প্রার্থী বদলের দাবি জানায়। এ সময় র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের সদস্যরা বিক্ষুব্ধদের ওপর লাঠিচার্জ করে। মাইক, মোটরসাইকেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে। সাংবাদিক, প্রেস শ্রমিক ও পথচারীরাও তাদের লাঠি পেটায় আহত হন। চরম ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে র‌্যাব শহরকে জনশূন্য করে ফেলে। এতে আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে আ.লীগসহ দলটির সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। রীতিমত ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে তৃণমূল পর্যায়ে। তারা নাবিল আহমেদকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে নারাজ। যশোর সদর আসনে প্রার্থী পুন: বিবেচনার পক্ষে নানা যুক্তি দেখিয়েছেন বিক্ষুব্ধরা। অনেকে ২০০১ সালের নির্বাচনের তিক্ততার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সেই নির্বাচনে নাবিলের পিতা কাজী শাহেদ আহমেদ’র কারণে যশোরে আওয়ামীলীগ প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। তিনি আ.লীগের প্রার্থী হতে না পেরে চশমা প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামেন। তার কালো টাকার ছড়াছড়ির কারণে যশোরের ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিই আ.লীগের হাত ছাড়া হয়। বিভক্তির সৃষ্টি হয় ঐতিহ্যবাহী দল যশোর আ.লীগে। সেই নির্বাচনে বিএনপি জোটের ৫ প্রার্থী বিজয়ের মুকুট পরে প্রথমবারের মতো যশোরে আওয়ামীলীগের দুর্গে আঘাত আনে। সেই থেকে দলটি কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তবে সুস্পষ্ট এই বিভক্তির পরও দলের হাল ছাড়েননি শাহীন চাকলাদার। তিনি শক্ত হাতে দলের হাল ধরেণ। অনেকের দাবি তার ত্যাগ ও সাংগঠনিক কৌশলের কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৬টি আসনই বিএনপি-জামায়াতের কবল থেকে পুনরুদ্ধার হয়। সবকটি আসনে জয় লাভ করে আ.লীগের প্রার্থী। পরে তিনি সদর উপজেলা নির্বাচনে প্রায় দেড় লাখ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তবু রাজপথ ছাড়েননি এই নেতা। বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের সরকার বিরোধী কোন কর্মসূচিতে যশোরের মানুষ স্বতস্ফুর্তভাবে অংশ নেয়নি। গত প্রায় এক দশক ধরে যশোরের রাজপথ রয়েছে আ.লীগের দখলে। আ.লীগের শক্ত দুর্গ গড়ে উঠেছে এখানে। অথচ দলের হাইকমান্ড অতীত ও বর্তমানের গুরুত্বপূর্ণ এসব ভূমিকার কোন মূল্যানয়ন করেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, যশোরের মানুষ অতিথি প্রিয় কিন্তু অভিভাবক হিসেবে নয়। বিশেষ করে যশোর সদরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সংসদীয় আসনে স্থানীয় ও পরীক্ষিত নেতাকেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে উদগ্রিব যশোরের মানুষ। দল নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বিক্ষুব্ধদের সাথে একমত। তারা বলছেন কর্মী সমর্থকদের নিয়েই দল। তাদের ডিমান্ডের মুল্যায়ন করা উচিত। তা না হলে ১৮ দল বিরোধী সাংগঠনিক ক্ষেত্রে বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠবে। বিরোধীদলের গতকালের অবরোধে মাঠে না নেমে তার প্রমাণও দিয়েছে যশোর আ.লীগের নেতা-কর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে দলের হাইকমান্ড সর্দ আসনটিতে প্রার্থী মনোনয়নে পুন: বিবেচনা করবে এমন প্রত্যাশা করছেন যশোরের সর্বস্তরের মানুষ।

শেয়ার