সমাজের কথার প্রেসে র‌্যাবের হামলা ॥ রক্ষা পায়নি সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষ

Rabmararsobi
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে সন্ত্রাসী স্টাইলে গাড়ি ভাংচুর অগ্নীসংযোগ ও আমজনতাকে বেধড়ক পেটালো র‌্যাব। র‌্যাবের হাত থেকে রেহাই পাননি সাংবাদিক ও প্রেস শ্রমিকরাও। তাদের হামলায় স্পন্দনের তিন সাংবাদিক ও সমাজের কথার ৪ প্রেস শ্রমিক আহত হন। শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় র‌্যাব সদস্যরা এই হামলা চালিয়ে জনমনে আতংক সৃষ্টি করে। অবাঞ্চিত প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়ে এই বিতর্কিত ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে এই টহল দলটি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে কলুষিত করেছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন। এদিকে তাদের তাণ্ডবে অনেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। এর ফলে শহরপ্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। র‌্যাবের এই অতি উৎসাহী ভূমিকায় মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল আওয়ামীলীগ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। এতে দেখা যায় চশমালীগ খ্যাত কাজী নাবিল আহমেদ। যশোর সদর-৩ আসনে প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন। এই বিষয়টিকে তাৎক্ষনিকভাবে মোটেও মেনে নিতে পারেনি দলীয় কর্মী সমর্থকরা। দল নিরপেক্ষরাও হতবাক হন। তাদের ভাষায় অতিথি পাখির মতই উড়ে এসে জুড়ে বসলেন কাজী নাবিল আহমেদ। এতে বিুব্ধ হয়ে আওয়ামী লীগসহ তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মী ও সমর্থকরা রাস্তায় নেমে আসে। যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তারা অবস্থান নিয়ে শান্তিপুর্ণভাবে সড়ক, মহাসড়ক অবরোধ করে। সাধারণ মানুষও শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এ সময় র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের মেজর আহসান হাবিব রাজিবের নেতৃত্বে র‌্যাব সদস্যরা এসে বেধড়কভাবে পেটায়। মাইক ও বেশ কয়েকটি মটরসাইকেল ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা শহরের ধর্মতলা এলাকায় গিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ আমজনতার উপর এবং তাদেরকে মার পিট করে। পরে ঢাকা রোড কাঠালতলায় সমাজের কথার প্রেসে গিয়ে প্রেসশ্রমিকদের বেধড়ক মারপিট করে। বেধড়ক মারপিটের শিকার হন প্রেস শ্রমিক ইদ্রিস আলী, নীরব হোসেন, পিন্টু ইসলাম ও সবুর আলী। এরবাইরে তারা হাফিজুর রহমান ও আল আমীনের একটি আরএক্স ও হিরো হোন্ডা স্পিলিন্ডার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। শহরতলীর রাজারহাট মোড়ে গিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ৮ টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। এর মধ্যে রামনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন, সাধারন সম্পাদক শেখ হাসানুজ্জামান হাসু, আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর হোসেন, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম ও ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্সের মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। এরপর তারা সেখানে একটি মাইক পুড়িয়ে দেয়। এ ছাড়াও বহু লোকজনদের পিটিয়ে আহত করে। শহরের প্রাণ কেন্দ্র দড়াটানা, ঢাকা রোড বাবলাতলা, পালবাড়ি মোড়, ধর্মতলা, চাঁচড়া, মুড়লী মোড়, মনিহারসহ বিভিন্নস্থানে তারা এই তাণ্ডব চালায়। র‌্যাব অনেকটা সন্ত্রাসী স্টাইলে এই তাণ্ডব চালায়। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দড়াটানায় স্পন্দন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মিরাজুল কবির টিটো মারপিটের শিকার হন। খবর পেয়ে সেখানে গেলে একই পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার কাজী আশরাফুল আজাদ ও আব্দুল কাদেরের ওপর চড়াও হয় র‌্যাব সদস্যরা। এ খবরে সংবাদ কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সচেতন মহল বলছেন., আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যেখানে র‌্যাবের প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখার কথা সেখানে তারা সন্ত্রাসী কায়দায় তাণ্ডব চালিয়ে শহরে আতংক ছড়িয়ে দেয়। গতকাল র‌্যাবের টহল দল একটি পক্ষের হয়ে এই বিতর্কিত ভূমিকায় জড়িয়ে পড়ায় সর্বমহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

শেয়ার