রিজভী কারাগারে, রিমান্ডের শুনানি ৪ ডিসেম্বর

RuhulkabirRijbi
সমাজের কথা ডেস্ক॥
নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয় থেকে আটক বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ‘নিরাপত্তা বাড়াতে’ বিএনপি অফিসে এবার ‘শাটার’
শনিবার ভোরে গ্রেপ্তার রিজভীকে শাহবাগে বাসে আগুন দেয়ার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকালে ঢাকার আদালতে হাজির করে পুলিশ।
এই মামলায় তাকে ১০ দিন হেফাজতে চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। অন্যদিকে রিজভীর জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।

আবেদন শুনে ঢাকার মহানগর হাকিম এস এম আশিকুর রহমান শুনানির জন্য ৪ ডিসেম্বর দিন ঠিক করে বিএনপি নেতাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বিরোধী দলের অবরোধ শুরুর আগ মুহূর্তে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব রিজভীকে আটক করে রাখা হয় মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশ সদর দপ্তরে। দুপুরের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ৭১ ঘণ্টা অবরোধের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহবাগে একটি গাড়িতে পেট্রোল বোমা ছোড়া হয়। এতে ১৮ জন অগ্নিদগ্ধ হন, যার মধ্যে দুজন হাসপাতালে মারা গেছেন।
ওই ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় রিজভী ছাড়াও দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকতউল্লাহ বুলু, সালাউদ্দিন আহমেদ ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালামকেও আসামি করা হয়েছে।
ওই মামলার পর শনিবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে রিজভী এবং তার সঙ্গী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বেলাল আহমেদকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।
বাইরে পুলিশের অবস্থানের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে ফটকে তালা আটকে দলীয় কার্যালয়েই থাকছিলেন রিজভী। সেখানে থেকে সংবাদ সম্মেলনের পাশাপাশি টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানেও অংশ নিচ্ছিলেন তিনি।
বিএনপি কার্যালয়ের কর্মচারীরা জানান, সাদা পোশাকে থাকা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল দড়ি ও মই বেয়ে দোতলায় উঠে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে। এরপর তৃতীয় তলায় দলের মহাসচিবের কক্ষের দরজা ভেঙে রিজভীকে আটক করে নিয়ে যায়।
রিজভী ও বেলালকে আটকের পর সাদা মাইক্রোবাসে করে মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশের সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাত মাস আগে অভিযান চালিয়ে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতাদের আটক করা হয়। তখন রিজভীও গ্রেপ্তার হয়ে কিছু দিন কারাগারে ছিলেন।
রিজভীকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “সরকার বর্বরভাবে দমনীতির মাধ্যমে আন্দোলনকে স্তব্ধ করার জন্য নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে।”
গত এক মাসে হরতাল-অবরোধের মধ্যে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার, আ স ম হান্নান শাহ, রফিকুল ইসলাম মিয়া, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মো. নাছির উদ্দিন ও আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

শেয়ার