বিএনপি-জামায়াতের সংহিসতার বলি ৫০ প্রাণ

50burn
সমাজের কথা ডেস্ক ॥
১৮ দলীয় জোটের কয়েক দফা হরতাল-অবরোধে ককটেলে, পেট্রোল বোমা, আগুনসহ নানাভাবে আক্রান্ত হয়ে গত ১ মাসে প্রাণ হারিয়েছেন ৫০ জন সাধারণ নাগরিক।এদের অধিকাংশই খেটে খাওয়া মানুষ। রাজনীতির সাথে ছিল না তাদের প্রত্যক্ষ সংযোগ। অধিকাংশই নিতান্তই পেটের দায়ে নামতেন রাস্তায়।
গত ২৭ অক্টোবর থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের চার দফা হরতাল অবরোধে কমপক্ষে ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। শুধু ২৭ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দফা হরতালের হামলা, ককটেল, পেট্রোল বোমা, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের গুলিতে ৩০ জনের মতো প্রাণহানি ঘটেছে।
প্রথম দফায় ২৭ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবরের হরতালে নিহত হয়েছে ১৩ জন। দ্বিতীয় দফায় ৪ নভেম্বর থেকে ৬ নভেম্বরের হরতালে ৪জন। ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত চার দিনের হরতালে নিহত হয় চারজন।
২৬ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া ১৮ দলের ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ শেষ হওয়ার কথা ছিল বৃহস্পতিবার সকালে। পরে একে দুই দফা বাড়িয়ে নেয় হয় শুক্রবার সকাল পর্যন্ত।
এ সময়ের টানা ৭১ ঘণ্টার অবরোধের প্রথম দিন ৭জন, দ্বিতীয় দিন ১০ জন এবং তৃতীয় দিন ৩ জন নিহত হয়।
সর্বশেষ শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ৭২ ঘণ্টার অবরোধে প্রথম দিন শনিবার দুপুর পর্যন্ত ১জন নিহতদের খবর পাওয়া গেছে। অন্যরা আহত হয়ে পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
গত এক মাসে ১৮ দলের চার দফা হরতাল-অবরোধে দগ্ধ ও পঙ্গুদের এখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রাজনীতির আগুনে পুড়ে যাওয়া এসব মানুষের আর্তচিৎকার ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে হাসপাতালের বার্ন ইউনিট।
এদের অনেকের পুরো শরীর আগুনে ঝলসে গেছে। ককটেল ও বোমার স্পিন্টার বিদ্ধ হয়ে পঙ্গু হয়েছেন কেউ কেউ। ফলে দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে তাদের জীবন। ভেঙে গেছে সাজানো স্বপ্ন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন পার্থ শঙ্কর পাল বাংলামেইলকে বলেন, ‘গত এক মাসের সহিংস ঘটনায় দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া ককটেল, পেট্রোল বোমা ও অগ্নিসংযোগে ৯ জনের মতো চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ১১০ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ৬০ জন। এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন আরো ৫ থেকে ৭ জন রোগী।’
সহিংস এসব হরতাল আর অবরোধে মৃত্যুর যেন দায় নেই কারো! এসব ঘটনায় বিচারও পায় না কেউ। পুলিশের কাছে যেমন গুরুত্বহীন বেওয়ারিশ লাশের মামলা, তেমনি রাজনৈতিক সহিংসতায় এসব হত্যাকাণ্ডের মামলারও অবস্থা একই।
এমন ঘটনায় বিচার হওয়ারও নজির কম। এসব মৃত্যু নিয়ে সবাই রাজনীতি করে, কিন্তু কেউ খবর রাখেনা ভুক্তভোগীদের। হরতাল অবরোধে একের পর এক তাজা প্রাণ ঝরে গেলেও এর দিয়ে করা হচ্ছে আবার রাজনীতি। সরকার দল বলছে বিরোধী দলে জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি করছে। আবার বিরোধী দল বলছে এসব লাশের দায় সরকারের।যাদের জন্যই এই রাজনীতি সেই রাজনীতির কারণেই যদি এমন পরিস্থিতি তাহলে সেই রাজনীতির দরকার কী? কিংবা হতে পারে নিহত ও আহতদের এমন প্রশ্নের জবাব। কে বা দিতে এর উত্তর!
এসব মৃত্যুর জন্য কারা দায়ী জানতে চাইলে সুজন সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতাদেরই এর দায় নিতে হবে। তাদের নোংরা রাজনীতির বলি হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ। এজন্য প্রয়োজন দুইদলের সমঝোতা। না হয় এর ভয়াবহতা আরও বৃদ্ধি পাবে।’

শেয়ার