বিএনপির সন্ত্রাসবাদ কায়েম

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের প্রথম দিন বোমা হামলা, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতায় সারাদেশে বিজিবিসহ ৮ জন নিহত হয়েছে। পরে অবরোধের মেয়াদ আরও ২৩ ঘন্টা বাড়িয়ে মোট ৭১ ঘন্টা করা হয়। বিরোধী দল গত কয়েকমাস ধরে যেভাবে ধ্বংসাত্মক তাণ্ডব চালাচ্ছে তাতে এটা সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে, বিরোধীদলীয় কর্মসূচী এখন আর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পর্যায়ে নেই বরং তা রীতিমতো সন্ত্রাসে রূপ নিয়েছে। এ রক্তয়ী সন্ত্রাস তবে কার বিরুদ্ধে? আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, রেলগাড়ি, বাস, বেবিট্যাক্সি, রিক্সায় পেট্রোলবোমা নিপে করা হচ্ছে। ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে জনগণের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বিনষ্ট করা হচ্ছে। বিরোধী জোট যেন সারাদেশকেই ধ্বংসের শেষ সীমানায় নিয় যেতে চায়। এভাবেই যদি চলতে থাকে তাহলে দেশের অবস্থা কি দাড়াবে? বিরোধী জোট একবারও এ কথা ভাবছে না। বিএনপি-জামায়াত জোটের কর্মীদের ধ্বংসাত্মক তৎপরতা দেখে এখন আর তাদের রাজনৈতিক কর্মী বলে বিবেচনা করা যায় না বরং তারা যেন ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে। তারা সব ন্যায়নীতি বিসর্জন দিয়ে কেন এহেন আচরণ শুরু করেছে? কেন সাধারণ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করছে? এ প্রশ্নের কোন জবাবই তাদের কাছ থেকে পাওয়া যায় না।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সন্ত্রাসবাদের কোন স্থান নেই। এখানে প্রতিটি েেত্র আলাপ-আলোচনাকেই অগ্রাধিকার দেয়া হয়। এ কারণে আলোচনা ও সমঝোতাকেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি বলে বিবেচনা করা হয়। সংসদীয় গণতন্ত্রে জাতীয় সংসদকে পাশ কাটিয়ে কিছুই করার নেই। এখানে সররকার ও বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দ প্রতিটি বিষয়ে সংসদে অবাধে আলোচনা করতে পারেন। আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে তারা যে কোন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এেেত্র গোপনীয়তার কোন দরকার নেই; সব কিছু স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রধান বিরোধী দল শুরু থেকে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেনি। তারা দিনের পর দিন সংসদের অধিবেশনে অনুপস্থিত থেকেছে। এভাবে বিরোধীদলীয় সদস্যরা তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন থেকেও বিরত থেকেছে। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো, বর্তমান সরকার মতা গ্রহনের পর থেকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি গণতান্ত্রিক রাজনীতির বদলে সন্ত্রাসকেই যেন তাদের অন্যতম প্রধান কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছে। জামায়াতের সঙ্গে জোটবেঁধে তারা হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতা চালাচ্ছে। এবার অবরোধে ট্রেনে আগুন লাগিয়ে ও লাইন উপড়ে ফেলে কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট করা হয়েছে। বিরোধী জোট কি যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দিতে চায়?
গণতন্ত্রের স্বার্থে আলোচনায় অবশ্যই ফিরতে হবে। একমাত্র আলোচনাই পারে সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর রাখতে। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা ছাড়া অবাধ ও নিরপে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়; আমাদের সবার তা মনে রাখা দরকার।

শেয়ার