কপিলমুনিতে কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি॥ কপিলমুনিতে জামে মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে দিন দুপরে বে-দখল হল কোটি টাকা মূল্যের সরকারি সম্পত্তি। ঘটনায় ব্যবসায়ী সহ সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ক’দিন ধরে এমন ঘটনায় সর্ব স্তরের মানুষের মাঝে সমালোচনার ঝড় বইছে। বাজারের প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সাথে অবৈধ ভাবে ডি,সি,আর নেওয়া মৎস্য ব্যবসসায়ীদের জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংঙ্খা করছেন বাজারের ব্যবসায়ী সহ সচেতন মহল।
জানা যায়, খুলনার সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক মোকাম কপিলমুনির জায়গা জমির মূল্য জেলা সদরসহ ক্ষেত্র বিশেষ রাজধানীর জায়গার সমপরিমান। ব্যবসায়ীক কেন্দ্র হিসাবে কপিলমুনির রয়েছে যথেষ্ট পরিচিতি ও সুনাম। ফলে প্রতি বছর বৃহৎ এ মোকাম থেকে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব আদায় করে থাকে। চলতি বছর এর রাজস্ব আদায়ের পরিমান প্রায় ১৬ লাখ টাকা। অথচ দীর্ঘদিন জায়গা স্বল্পতার কারণে বাজারের সম্প্রসারণ তথা বাজার ব্যবস্থাপনায় নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি বাজার কেন্দ্রীক কপোতাক্ষের জেগে ওঠা কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি বাজার সম্প্রসারণের কাজে না লাগিয়ে বরং ডিসিআর বাণিজ্যে মাঠে নেমেছে উপজেলা ভূমি অফিসের দ্বায়িত্বশীলরা। রাজস্ব আদায়ের পন্থা অবলম্বন না করে বরং ডিসিআর বানিজ্য সরকারি কোটি টাকার সম্পত্ত্বি ব্যক্তি মালিকানায় সোপর্দ করেছেন তারা। এমন প্রেক্ষাপটে বিপুল পরিমান রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনাকে গলাটিপে হত্যা করে চলেছেন সরকারের দ্বায়িত্বশীলরা। আর যেখানে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা সেখানে ডিসিআর দিয়ে বার্ষিক তের টাকা হারে কর আদায় কতটুকু যৌক্তিক বা লাভ জনক তা নিরুপনের দাবী এলাকাবাসীর । এদিকে ডিসিআর এর মাধ্যমে বন্দোবস্ত না দেওয়ায় প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাদের দাবি , পূরাতন ব্যবসায়ী হিসাবে তাদের অগ্রাধিকার রয়েছে সবার আগে। তারা আরও জানায়, একই বাজার অথচ সেখোনে দুই দর কখনো মানবেন না তারা। তারাও ডি সি আর এর মাধ্যমে বন্দোবস্তো নিতে আগ্রহী । ফলে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা একেবারেই অনিশ্চয়তার পথে। সূত্র জানায়, কোটি টাকার সম্পত্তির উপর বার্ষিক তের টাকা হারে ডিসিআর প্রাপ্তরা তাদের জায়গা দাবি করে গত রোববার স্থায়ী এক ব্যবসায়িকে উচ্ছেদের উদ্যেশ্যে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুর চালায়। সৃষ্ট ঘটনায় বাজারে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সাথে অবৈধ ভাবে ডিসিআর নেওয়া মৎস্য ব্যবসায়ীদের যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংঙ্খা করছেন ব্যবসায়ী সহ সচেতন মহল। এব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শামীম হাসান বলেন, কপিলমুনি বাজারের পূরাতন মৎস্য ব্যবসায়ীরা লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে। এরই আলোকে পাইকগাছা থানা পুলিশ ও স্থানীয় ভূমি অফিসকে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার