সাহায্য নয়, শাস্তি চাই

shajjonoysasti
বাংলানিউজ॥
‘যারা আমার বাবাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছে আমি তাদের শাস্তি চাই। বাবার এই অবস্থা দেখে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন বাবার অবস্থা দেখে সাংবাদিকদের কাছে এ দাবির জানান ‘বিহঙ্গ’ পরিবহনের চালক মাহবুব হোসেনের ৭ বছরের শিশুপুত্র শাহিন।

বিএনপি-জামাতসহ ১৮ দলীয় জোট আহুত টানা ৭১ ঘণ্টার অবরোধের তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগ শিশুপার্কের সামনে যাত্রীবাহী চলন্ত বাসে পেট্রোল বোমা মারে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মাহবুব হোসেন।

এই ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়ে ঢামেকের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ১৭ জন। এছাড়া গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় মৃত্যু হয় নাহিদ হোসেন নামে এক বাসযাত্রীর।

আহত মাহবুবের বড় ভাই মকবুল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ডাক্তার বলেছে আমার ভাইয়ের শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে। আমার ভাই তো রাজনীতি করে না। তাহলে কেন তার এই অবস্থা হলো? এখানকার ডাক্তাররা আমার ভাইয়ের চিকিৎসা করলেও যারা এই অবস্থার জন্য দায়ী আমি তাদের শাস্তি চাই।

একই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় ঢামেকের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রবিন হোসেন। তিনি নিহত নাহিদ হোসেনের মামাতো ভাই। বাসে আগুনের ঘটনায় রবিনের শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানান দায়িত্বরত চিকিৎসক।

তাকে দেখতে এসে সকালে রবিনের মায়ের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে বার্ন ইউনিটের পরিবেশ। রবিন ফার্মগেটের একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করতেন বলে জানান তার পরিবারের সদস্যরা।

ঘটনায় দগ্ধ ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খোদেজা নাসরিক সেলিনার ভাই টুকু বাঙালি আর্তনাদ করে বলছিলেন, আমার বোনের অবস্থা দেখে আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সড়ে গেছে। আমার পরিবার মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। কেন আমসার বোনের সাথে এমন করা হলো। যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শরিয়তপুরের গোসারহাট উপজেলার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন মৃধা। তার বোনের ছেলে মিল্লাত হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, মামা শরিয়তপুরে কর্মরত থাকলেও তার পরিবার ঢাকার মিরপুরে থাকে। তিনি প্রতি সপ্তাহেই ঢাকায় আসেন। কালও ঢাকায় এসে মিরপুরে যাচ্ছিলেন।

বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল জানান, এই ঘটনায় যারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাদের প্রায় সবারই শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। তাই সবার অবস্থায় আশঙ্কাজনক। বর্তমানে ৩ জনকে আমরা আইসিইউতে রেখেছি এবং আরও ৩ জনকে আইসিইউতে নিয়ে আসা হবে। তবে বেড সঙ্কটের কারণে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া ঢামেক থেকে চিকিৎসার সব ধরনের খরচ বহন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার দুপুরে অগ্নিদগ্ধদের দেখতে ঢাকা মেডিকেলে এসেছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিএনপিসহ বিরোধী জোট আহত কর্মসূচির ছাতার তলে ক্রমাগত মানুষ হত্যা করে তারা মানবতা বিরোধী অপরাধ করছে। আমি তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং আশা করি বিরোধী দলীয় নেতা এ ঘটনার নিন্দা জানাবেন এবং তার কর্মীদের এ ধরনের নাশকতা থেকে বিরত রাখবেন।

তিনি বলেন, আন্দোলন করে দাবি আদায়ের অধিকার সবারই আছে। কিন্তু আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যার অধিকার কারও নেই। এছাড়া বিরোধী দলের কর্মীরা মানুষ হত্যা করে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী ছাড়াও সকালে অগ্নিদগ্ধদের দেখতে আসেন সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী সাহারা খাতুন, সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মজিবুল রহমান ফকির।

শেয়ার