সংসার ঠিক রেখে অভিনয় করতে চান মৌটুসী

moutusi
বাংলানিউজ ॥
মৌটুসী বিশ্বাস। একজন মডেল, উপস্থাপিকা ও অভিনেত্রী। বসুন্ধরার আবাসিক এলাকায় নতুন পরিপাটি একটি ফ্লাটে থাকেন তিনি। বাসায় প্রবেশের পর পরই কন্যা আরিয়াকে নিয়ে ড্রইং রুমে এলেন। বসার আগেই বললাম, চলেন ছাদে গিয়ে ফটোসেশনের কাজটা শেষ করি। কারণ সূর্যের আলো প্রায় নিভু নিভু।

ছাদে গিয়ে কোল থেকে আরিয়াকে নামাতেই শুরু হলো তার চিৎকার-চেঁচামেচি। কোনোরকমে ছবি তোলা শেষ করে বিনয়ী সুরে মৌটুসী বললেন, আমি খুবই দুঃখিত। আজ আমার বাইরে কিছু কাজ ছিল। এজন্য দেরি হয়ে গেলো। আর আরিয়াকে কোল থেকে নামালেই কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। এজন্য এখন অনেক কাজই করতে পারছি না।

একুশে টেলিভিশনের ‘অ্যাডভেঞ্চার বাংলাদেশ’ নামের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে মিডিয়ায় মৌটুসী বিশ্বাসের পথচলা শুরু হয়। এরপরই মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর’র ‘একান্নবর্তী’ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয়। এরপর বেশকিছু ধারাবাহিক ও খণ্ড নাটকের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন ‘ব্যাচেলর’ ছবিতে।

২০০৬ সালের ১২ ডিসেম্বর পলাশ দাসের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের প্রায় ৫ বছর পর তিনি মা হয়েছেন। একমাত্র কন্যাসন্তান আরিয়ার বয়স এক বছর আট মাসের মতো।

নিজের ঘরসংসার ঠিক রেখে মিডিয়ায় কাজ করতে চান এই অভিনেত্রী। কারণ কি? জানতে চাইলে বললেন, ‘আমি চাইলেই অনেক কিছু করতে পারি না। আমি এখন একজন মা। আমার সন্তান ও সংসার আমার কাছে আগে, এরপর অভিনয়। আগে এর ঠিক উল্টোটা ছিল।’

সন্তান হবার কারণে বেশকিছু দিন তিনি অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন। আলী ফিদা একরাম তোজোর আগ্রহেই ‘অঘটন ঘটন পটীয়সী`’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে আবার অভিনয়ে ফেরেন তিনি। এরপর শিহাব শাহীন এর ‘ভালোবাসার চতুষ্কোণ’ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেন।

ডিসেম্বর থেকে আরও দু’টি নতুন ধারাবাহিকে কাজ শুরু করবেন মৌটুসী। এ বিষয়ে বলেন, আমি নিজে থেকেই একটু বেছে কাজ করি। কারণ একটি চরিত্র ভালোভাবে উপস্থাপনের জন্য আমি অনেক প্রস্তুতি নেই। এই যেমন চরিত্রটি কেমন, ড্রেস কেমন হবে এসব বিষয়ে পরিচালকের মাথা নষ্ট করে ফেলি। ডিসেম্বরে তোজো ভাইয়ের ‘পরিবার পরিকল্পনা’ ও গৌতম কৈরীর সাথে ‘অপূর্বা’ নামের দু’টি ধারাবাহিকে কাজ করব। এছাড়া আরএফএল ইভেন্টে কাজ করেছি, সামনে প্রচার শুরু হবে। এখানে আমার সাথে আছে আরজে এহতেশাম।

মৌটুসীর বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। বাবা ড. সৌরেন বিশ্বাস এবং মা মঞ্জু হাসি দত্তকে নিয়েই তার পরিবার। বাবা চট্টগাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন। বাবা-মার একমাত্র এই মেয়ে চট্টগামে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ ডিগ্রি সম্পন্ন করে ঢাকায় এসে স্টান্ডার্ড চ্যাটার্ড ব্যাংকে ১ বছর চাকরিও করেছেন।

এরপর মিডিয়াতে অভিষেক তার। এ বিষয়ে মৌটুসী বলেন, আমার চাকরির জন্য মূলত ঢাকায় আসা। আর আমার জন্য মা আমার সাথে ঢাকায় থাকত। তারপর উপস্থাপনা, অভিনয় এবং হঠাৎ করেই বিয়ে। বিয়ের পর এক বছর পলাশের সঙ্গে দিল্লীতেও থেকেছি।

হাসান মোরশেদের ‘জ্যোৎস্নার অন্ধকার’, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘একান্নবর্তী’ , আশরাফুল আলম রিপনের ‘আড়ালে’, সকাল আহমেদের ‘চতুর্জামাই’, অনিমেষ আইচের ‘তুমি আমার মা’, মেহের আফরোজ শাওনের ‘বীণার অসুখ’সহ বেশকিছু নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছেন মৌটুসী।

নাটকের পাশাপাশি তিনি মার্কস ফুলক্রিম, প্রাণসহ বেশকিছু ভালো ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছেন। সবশেষে তার বিবাহিত জীবনের পর অভিনয় ক্যারিয়ারের ভবিষৎ পরিকল্পনা বিষয়ে জানতে চাইলাম।

উত্তরে বললেন, আমি এখন নাটকে শুটিং করলেও বাসায় রাত ১০টার মধ্যে ফেরার চেষ্টা করি। আর এ বিষয়ে আমার হাজবেন্ড যথেষ্ট সহযোগিতা করেন আমাকে। আর আমি শুটিং শেষ করে কখনোই কোনো পার্টিতে যাইনি এবং যাবোও না।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার অভিনয়কে যেমন ভালোবাসি, ঠিক তেমনি নিজের সংসার ও স্বামীকেও ভালোবাসি। আমি মাঝে বেশকিছু ছবির প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু করি নাই। কারণ আমি যাই করি, আমার সংসার ও সন্তানের কথা প্রথমে ভেবে কাজে নামতে চাই।

শেয়ার