টিকফা চুক্তি

বাংলাদেশের সঙ্গে বহুল আলোচিত টিকফা চুক্তির বিষয়টি স্থায়ী রূপ পেল। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরামের চুক্তি (টিকফা) দুই দেশের পে চূড়ান্ত সমাধানে গত ২৫ তারিখ রাতে ওয়াশিংটনে স্বারিত হয়। গত ১৭ জুন মন্ত্রিসভা টিকফা চুক্তিতে স্বার দেয়ার ব্যাপারে অনুমোদন দেয়। আশা করা যায়, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সুবিধা, পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারসহ কৌশলগত অনেক বিষয়ে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। যদিও দেশের বামপন্থী সংগঠনগুলো এই চুক্তির বিরোধিতা করে এসেছে। বিশ্বের ৪২টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এবং ৯২টি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের চুক্তি রয়েছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভুটান ছাড়া সব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই চুক্তি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই চুক্তিটি নিয়ে দরকষাকষি চলছিল। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য েেত্র জিএসপি সুবিধা হারালে চুক্তিটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। চলতি মেয়াদে সরকারের শেষ সময়ে এসে এই চুক্তি স্বারের ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। আশা করা যাচ্ছে, এই টিকফা চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক মধুরতর হতে পারে। বাংলাদেশ প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০ কোটি ডলার মূল্যের যেসব পণ্য আমদানি করে তার মধ্যে আছে সুুতা, কাপড়, যন্ত্রপাতি, স্টিল, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, গম ও কিছু খাদ্যশস্য। আর প্রতিবছর রফতানি করে ৪৯০ কোটি ডলার। রফতানি করা পণ্যের মধ্যে আছে তৈরি পোশাক ও কিছু সিরামিক সামগ্রী। বাংলাদেশ আমদানি না বাড়ালেও রফতানি আরও বাড়াতে পারে। বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়াতে সম্ভাব্য সব করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ের জন্যও আমাদের তৎপরতা বাড়াতে হবে। বিশ্বপ্রোপটে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনেক ইস্যু বিভিন্ন সময়ে আমাদের সামনে আসে। রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত সমস্যাও। এগুলোর জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রকে আমাদের পাশে পাওয়া যাবে টিকফা চুক্তির মাধ্যমে। তাই বর্তমান সময়ে চুক্তিটি অনেক গুরুত্ব বহন করছে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল একটি দেশ। বাংলাদেশ আজ নানা দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। অপরদিকে বাংলাদেশে আর একটি সমস্যা হচ্ছে, জনসংখ্যার আধিক্য। টিকফা চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে শুধু পণ্য রফতানি বাড়ালেই হবে না। সেই সঙ্গে জলবায়ুজনিত সমস্যাটিকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং দেশের জনশক্তি যদি যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করা যায় তাহলে দেশে বেকার সমস্যার সমাধান হবে। দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র্র ১০টি দেশের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য করছে, তার মধ্যে আছে চীন, কানাডা, মেক্সিকো, জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, দণি কোরিয়া, ব্রাজিল, সৌদি আরব ও ফ্রান্স। বাংলাদেশকে এই দশটি দেশের মধ্যে আসতে হলে কি কি ধরনের পণ্য তৈরি ও রফতানি করতে পারে সেই বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও নিবিড় বাণিজ্য চুক্তি করা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে দেশের পণ্য এখন অনেক উন্নত। শুধুু পোশাক ও সিরামিকের মধ্যে সীমিত না থেকে রফতানি েেত্র যাতে পণ্যের তালিকা দীর্ঘ হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তবে আশা করা যায়, টিকফা চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আবার বাংলাদেশী পণ্য, বিশেষভাবে তৈরি পোশাক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের সুযোগ পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি উন্নত করতে হবে, এজন্য দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা পরিহার করতে হবে। গার্মেন্ট শিল্পগুলোকে দুর্ঘটনামুক্ত রেখে এর পরিবেশ আরও উন্নত করতে হবে আমাদের স্বার্থে। কোন অবস্থাতেই যেন দেশে কোন প্রকার শিল্প ধ্বংসের আত্মঘাতী প্রবণতা না দেখা দেয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যদিও দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলেছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে চায়। টিকফা চুক্তি যেন কোন শুভঙ্করের ফাঁকি না হয় বামপন্থীদের মতামতের আলোকে অন্য যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি আছে তাদের রাজনৈতিক অবস্থা কী তা পর্যবেণ করতে হবে। টিকফা চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে যেভাবে বাংলাদেশ লাভবান হয় সেভাবেই এগিয়ে যেতে হবে আমাদের।

শেয়ার