ঝিকরগাছায় স্কুলছাত্র মিরাজ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ॥ আটক ৪ ॥ অপহরণকারীদের চিনেফেলায় নারাঙ্গালীর খালপাড়ে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে ঝোপে ফেলে দেয় লাশ

student
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ঝিকরগাছায় চাঞ্চল্যকর স্কুল ছাত্র রিয়াজুল ইসলাম মিরাজ (১৩) অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র‌্যাব। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে আটক করেছে র‌্যাব।
আটককৃতরা হলো, ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে মহসিন রেজা শাহীন (২৪), লক্ষ্মীপুর গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে মামুন চৌধুরী মুকুল (২২), লাউজানি রিফিউজি পাড়ার ইসরাঈল হোসেনের ছেলে মতিউর রহমান (১৬) ও জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের আক্তারুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম (১৬)।
বুধবার রাতভর অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের সদস্যরা মিরাজ হত্যাকারীদের চিহ্নিতকরণ, আটক ও রহস্য উদ্ঘাটন করে।
আটককৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে মুক্তিপণের দাবিতে ঝিকরগাছা বিএম হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মিরাজকে (১৩) তারা অপহরণ করে। অপহরণকারী ৪ জনের মধ্যে মতিউর ও আরিফুল একই স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র। মুক্তিপণ নিয়ে দর কষাকষি করলেও তারা মিরাজকে একদিন পরেই হত্যা করে লাশ ফেলে দেয় তারা।
র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর আহসান হাবিব রাজীব জানান, ২০ নভেম্বর স্কুল ছাত্র মিরাজ অপহরণ ও ২৩ নভেম্বর তার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে এর রহস্য উদ্ঘাটনে নামেন।
বুধবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা প্রথমে আরিফুলকে আটক এবং অপহরণের কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে মতিউরকে আটক ও আরও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে রাতভর অভিযান চালিয়ে মামুন ও শাহীনকে আটক এবং অপহরণকারী চক্রের মোট ৭ সদস্যকে সনাক্ত করা হয়।
মেজর আহসান হাবিব রাজীব আরও জানান, মিরাজকে অপহরণের জন্য এ চক্রের হোতা লাউজানী এলাকার আব্দুল হক মেম্বরের ছেলে মিলন (২৯) ও তার সহযোগীরা ১৬ নভেম্বর পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা মিরাজের পূর্ব পরিচিত মতিউর ও আরিফুলকে এর সঙ্গে সংযুক্ত করে। এদের মাধ্যমেই তাকে ২০ নভেম্বর বাওড় দেখানোর কথা বলে নিয়ে যায় এবং নারাঙ্গালীর একটি বাড়িতে আটকে রাখে।
পরে মিরাজের পিতা মিজানুর রহমানের কাছে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ নিয়ে তারা দেন দরবার করে এক পর্যায়ে আড়াই লাখ টাকায় নেমে আসে এবং দু’দফায় ৮ হাজার টাকা আদায়ও করে।
কিন্তু অপহৃত মিরাজ অপহরণকারীদের চিনে ফেলায় তার হাতে কলম দিয়ে তাদের নাম লিখে রাখে। এতে আতঙ্কিত হয়ে ধরা পড়ার ভয়ে পরদিন ২১ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে মিরাজকে অপহরণকারীরা নারাঙ্গালী গ্রামের খালের পাড়ে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয়। এর দু’দিন পর মিরাজের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

শেয়ার