গাড়িতে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ নাহিদ ও রবিন মৃত্যুর মিছিলে, ১৭ জন গুরুতর

DMC

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় আহত ১৯ জনের মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাহিদ মোড়লের মৃত্যু হয়। পরে আরও একজন মারা গেছেন। নিহতের নাম রবিন (২২)। নিহত রবিন নাহিদের মামাতো ভাই। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (আইসিইউ) ডাক্তার মৌমিতা তালুকদার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রবিনকে মৃত ঘোষণা করেন।
আর শ্বাসনালীতে আগুন লাগার কারণে অবশিষ্ট ১৭ জনের সবাইকে আশঙ্কাজনক বলছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
নিহত নাহিদ বার্ন ইউনিটের দ্বিতীয় তলায় আইসিইউ’র ৫ নাম্বার বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার জন্ম মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার কুতুবপুর গ্রামে।
নাহিদের পিতার নাম সোহরাওয়ার্দী মোড়ল। তিনি কুতুবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বার্ন ইউনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক ড. হোসাইন ইমাম বলেন, তার শরীরের ৫৩ ভাগ পুড়ে গেছে। সব চেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে শ্বাসনানী। যে কারণে আমরা নাহিদকে বাঁচাতে পারলাম না।
তিনি আরো বলেন, সবারই শ্বাসনালী দগ্ধ হয়েছে। যে কারণে আমরা সবাইকেই আশঙ্কাজনক বলছি।

নিহতের বড় ভাই রাসেল বাংলানিউজকে বলেন, সকালে এক সঙ্গে মাঠে কাজ করেছি।
শীতের পোশাক কেনার জন্য সে ঢাকায় আসে। পোশাক আর কেনা হলো না আমার ছোট ভাইয়ের। পরে মারা যায় নিহতের নাম রবিন (২২)। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (আইসিইউ) ডাক্তার মৌমিতা তালুকদার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রবিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে একই ঘটনায় নাহিদ মোড়ল নামের একজন যুবক মারা যান বার্ন ইউনিটে। নিহত রবিন নাহিদের মামাতো ভাই। এ ঘটনায় আহত আরও কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বিহঙ্গ পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস হাইকোর্ট মোড় হয়ে মিরপুরের দিকে যাচ্ছিল। ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ সংলগ্ন শিশু পার্কের সামনে কয়েকজন দুর্বৃত্ত পেট্রোল বোমা ছুড়ে পালিয়ে যায়। বাসটি তৎক্ষণাৎ না থেমে দুর্বৃত্তদের হাত থেকে বাঁচতে শাহবাগের দিকে যাচ্ছিল।

পরে গাড়িটি থামলেও যাত্রীরা নামতে না পারায় ১৯ জন অগ্নিদগ্ধ হন। এদের মধ্যে সাংবাদিক, আইনজীবী, গাড়ির চালক ও ব্যবসায়ী রয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন একুশে টেলিভিশনের মুক্ত খবর অনুষ্ঠানের শিশু সাংবাদিক সুস্মিতা সেন ও অ্যাডভোকেট খোদেজা নামে একজন আইনজীবী।
আহত অন্যরা হলেন- গাড়ির চালক মাহবুব, আমজাদ, রাহাদুল, রিয়াদ, মাহি, বাবু, আবু তালহা, নুরুন্নবি, মাসুমা, গীতা সেন, রবিন, শফিকুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর ও শামিম। বাকি তিনজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
আহতদের সবাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন।

গাড়ির হেলপার জানান, হঠাৎ করে কয়েকজন যুবক চলতি অবস্থায় গাড়িতে পেট্রোল বোমা ছুড়লে আগুন ধরে যায়।
রমনা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) শিবলি নোমান জানান, চলন্ত অবস্থায় বাসটিতে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারার কারণে আহতদের সংখ্যা বেশি হয়েছে।

শেয়ার