ঋগে¦দের প্রাচীন সুরা ফিরছে ভারতে

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ভারতের বুকে জন্ম তার৷ প্রায় ছ’হাজার বছরের পুরোনো ঋগ্বেদে রয়েছে পৃথিবীর প্রাচীনতম মদ বানানোর প্রণালী৷ এবার লিথুয়ানিয়ার এক সংস্থার হাত ধরে ভারতে ফিরতে চলেছে সেই মদ৷ ঋগ্বেদের সুরা ‘মধুমদ্য’ নাম নিয়ে নতুন রূপে ভারতে আসতে চলেছে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই৷ ইন্ডিয়ান বাল্টিক চেম্বার অফ কমার্স কর্তৃপক্ষ জানান, দিল্লির প্রগতি ময়দানের ফাইন ফুড প্রদর্শনীতে ভারতে প্রবেশ ঘটবে মধু মদ্যের৷

পৃথিবীর প্রাচীনতম সুরার মূল উপাদানকে মাথায় রেখেই তার নামকরণ৷ মৌচাক থেকে সংগৃহীত টাটকা মধু, পানি, ঈস্ট ও নানা গাছগাছড়ার থেকে তৈরি হয় এই মিষ্টি সুরা৷ বেশি দিন তাজা রাখার জন্য এর সঙ্গে মেশানো হয় বিয়ার বা ওয়াইন ঈস্ট৷ আয়ুর্বেদিক এই মদের প্রস্ত্ততপ্রণালী ঋগ্বেদেই রয়েছে৷

তবে, প্রাচীনতম এই মদের জন্য ১৯৬৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছ থেকে পেটেন্ট পায় লিথুয়ানিয়ার মদ প্রস্ত্ততকারক সংস্থাটি৷ ইন্ডিয়ান বাল্টিক চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি গেদিমিনাস চিটুকাসের কথায়, ‘এই অভিনব মদের পেটেন্ট লিথুয়ানিয়ার সংস্থা পেলেও এর উৎস কিন্ত্ত ভারতে৷ বছরে প্রায় দু’লক্ষ লিটার মধুমদ্য তৈরি করে সংস্থাটি, যার জন্য প্রয়োজন হয় প্রায় ১০০ টন মধু৷ প্রাচীনতম এই মদের মিষ্টি স্বাদ ও কম অ্যালকোহল ভারতীয়দের মধ্যে জনপ্রিয় হতে বাধ্য৷’

এক সময় মধুমদ্যের জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া হলেও মূল উপাদান মধুর অভাবেই অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকে বন্ধ হয়ে যায় এর উৎপাদন৷ অবস্থার পরিবর্তন বিশ শতকে৷ মধুর উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় সে সময় থেকে আবার এই মদ তৈরি শুরু হয়৷ তবে, এখন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা বদলেছে উৎপাদন পদ্ধতি৷ স্থায়িত্ব বাড়াতে এখন মধুর সঙ্গে মেশানো হচ্ছে লাইম ফ্লাওয়ার, জুনিপার বেরি ও বিভিন্ন ভিটামিন-সি যুক্ত উপাদান৷

চিটুকাসের বক্তব্য, ‘মধুমদ্যকে ২০০২ সালে লিথুয়ানিয়ার হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে৷ আপাতত ভারতে তা জনপ্রিয়তা পায় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আমরা৷’

শেয়ার