ই সেবার আওতায় যশোর বোর্ডের সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ॥ পাল্টে গেল মানদাদার আমলের সেবা পদ্ধতি

jessorebord
প্রত্যয় জামান ॥
বর্তমান সরকারের রূপ প্রকল্প ডিজিটাল বাংরাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রায় এবার যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাথে যুক্ত হলো খুলনা বিভাগের ১০ জেলার সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্কুল ফেলে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে এখন আর কারো বোর্ডে আসার প্রয়োজন হয়না। স্কুলে বসে অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে সবধরেনের সেবা। ইসেবার এই যাদুর কাঠিত দারুন খুশী শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। তারা বলেছেন সরকারের এটা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিতে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল যশোর শিক্ষা বোর্ড।
প্রতি বছর যশোর শিক্ষাবোর্ড থেকে জে এস সি এস এস সি এবং এইচ এসসি পরীক্ষায় প্রায় ৪ লাখ শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে। পরীক্ষাসহ প্রাতিষ্ঠানিক সংশ্লিষ্ঠ কাজে শিক্ষক বা শিক্ষার্থীদের বোর্ডে গিয়ে দিনের পর দিন ধর্না দিতে হত। সেই সাথে ফাইল নাড়াতে ঘাটে ঘাটে গুনতে হয়েছে কাড়ি কাড়ি টাকা । তার পরও সময় মত কাজটি পাওয়া যায়নি।বৃটিস আমলের সেবা ব্যবস্থায় ফাইলের পিছনে ঘুরতে হয়েছে মাসের পর মাস। ইসেবাকার্যক্রমে সেই সেবা ব্যবস্থায় এসেছে আমুল পরিবর্তন। বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল , নিবন্ধন, সনদপত্র মার্কশিট এবং প্রতিষ্ঠানের একাডেকি স্বীকৃতি ও অনুমোদনসহ মোট ৪০ টি সেবা দেয়া হয় বোর্ড থেকে। এসব সেবা এখন শুধু স্কুল বা কলেজ নয় দেশে এবং দেশের বাইরে থেকেও ইন্টারনেটের মাধ্যমে গ্রহণ করা যাচ্ছে।
ইসেবার সুবিধা বর্ণনা করতে গিয়ে শংকরপর মাধ্যকি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, যশোর বোর্ডে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে শুধ তাদের ভোগান্তি কমেনি সময় এবং অর্থের সাশ্রয় হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক কোন কাজে তাদের এখন আর বোর্ডে আসার প্রয়োান হয়না।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলি ইসেবার আওতায় আনার পাশাপাশি শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আই সিটির উপর বিশেষ প্রশ্ক্ষিন দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে বোর্ডের সকল বিভাগের কর্মকর্তা এবং সেকশন অফিসারদেরকে দক্ষতা বৃদ্ধির উপর বিশেষ প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে। তারা এখন বোর্ডের যাবতীয় কাজ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করছেন।
বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর আব্দুস সালাম বলেন, ইসেবার মাধ্যমে বোর্ডের সার্বিক কার্যক্রমে গুনগত যে পরিবর্তন এসেছে তা মাইল ফলক হয়ে থাকবে। শিক্ষকরা যেমন স্কুল বা কলেজে বসে বোর্ডের যেকোন তথ্য জানা বা সেবা নিতে পরছেন তেমনি কর্মকর্তারাও যেকোন তথ্য বোর্ডে বসে জানতে পারছেন। শত কিলোমিটার বা তারও বেশী পথ পাড়ি দিয়ে এখন আর কাউকে বোর্ডে আসতে হচ্ছেনা। ঘুরতে হচ্ছেনা ফাইলের পিছনে। এই চরম ভোগান্তি থেকে তারা রক্ষা পেয়েছেন। সব থেকে বড় কথা ফাইল নিয়ে বোর্ডের প্রতি যে বিরূপ ধারনা ছিল তা পাল্টে গেছে। সচ্ছতা ফিরে এসেছে সকল কর্মকাণ্ডে।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ার ম্যান প্রফেসর আমিরুল আলম খান বলেন,ইসেবা চালুর মধ্য দিয়ে যশোর বোর্ডে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ ইণ্টার নেটে কিক করেই জানতে পারছে বোর্ডে যাবতীয় তথ্য। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে প্রতিদিন দেশ বিদেণের প্রায় ১০ হাজার নেট ব্যবহারকারী যশোর শিক্ষা বোর্ডে ওয়েব সাইটে ভিজিট করেন। তা ছাড়া দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে যশোরের অবস্থান শীর্ষে। তিনি বলেন, এই সাফল্যে দেশে এবং দেশের বাইরে থেকে প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়েছে যশোর বোর্ড। তিনি বলেন, এযাবৎ কাল দেশের অন্যন্য বোর্ডগুলোকে শিক্ষা কারিকুলামসহ যাবতীয় বিষয়ে ঢাকা বোর্ডকে অনুসরণ করার কথা বলা হত । কিন্তু এখন আর ঢাকা নয় সেই গৌরবের জায়গা দখল করে নিয়েছে যশোর। যার স্বীকৃতিও দিয়েছে শিক্ষমন্ত্রণালয়। সর্বশেষ মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এক পত্রে যশোর বোর্ডের মডেল অনুসরণ করার জন্য সারা দেশের বোর্ড গুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শুথু তাই নয় যশোর বোর্ডে আইটি বিশেষজ্ঞরা এখন অন্যান্য বোর্ডে গিয়ে প্রশিক্ষন দিচ্ছেন।তিনি বলেন যশোর বোর্ডের ইতিহাসে এটি একটি বিরাট প্রাপ্তি। তার পেশাগত জীবনেও এটি অনন্য সাফল্য বলে মনে করেন তিনি। প্রফেনর আমিরুল আলম খান বলেন, এই গৌরব শুধু বোর্ডের নয় গোটা যশোর বাসীর।

শেয়ার