সাতক্ষীরায় মাইকিং করে পুলিশ র‌্যাব বিজিবি’র ওপর হামলে পড়লো জামায়াত ॥ কর্মী নিহতের প্রতিবাদে বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে শিবিরের লুটপাট, আজ হরতাল

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি॥ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শেয়ালডাঙ্গায় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সাথে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষে জামায়াত কর্মী শামছুর রহমান (৩৫) নিহত হয়েছে। এবারও জামায়াত মাইকিং করে লোক জড়ো করে যৌথ বাহিনীর উপর আক্রমন করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে যৌথ বাহিনী দেড় শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষন করে। বুধবার ভোর ৪ টার দিকে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত শামছুর রহমান সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শেয়ালডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মাজেদের ছেলে। সে পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। এঘটনার জের ধরে বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা তিনটি হিন্দু পরিবারসহ আ.লীগ সমর্থিত কয়েকটি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট ও অগ্নীসংযোগ করে। তারা ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে হরতালের ডাক দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানায় সংঘর্ষের পর যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর জামায়াত-শিবির ও বিএনপি সমর্থকরা আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক তাপস আচার্য ও আওয়ামী লীগ নেতা গোপাল হালদারের বাড়ি –ঘর লুটপাট করে। তারা একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ কর্মী শাহ আলম ও কাত্তিক চন্দ্রের মালিকানাধীন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানেও অগ্নিসংযোগ করে। তবে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল খালেক মন্ডল দাবি করেন, যৌথ বাহিনীর প্রায় এক হাজার সদস্য ৩৩ টি গাড়িযোগে শিয়ালডাঙ্গা এলাকায় জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করে। তারা একাধিক বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে। এ সময় মাইকিং করলে চারিদিক থেকে লোকজন এসে তাদেরকে অবরুদ্ধ করে ফেললে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের গুলিতে শামছুর রহমান নামের এক জামায়াত কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তার লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করলেও তাদের সংখ্যা জানাতে পারেননি তিনি।
এদিকে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফসহ ৫ বিএনপি সমর্থককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাত ১ টার দিকে আব্দুর রউফকে তার গ্রামের বাড়ি আলিপুর থেকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার বাড়ি থেকে আরো ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সাতীরা সদর থানার ওসি ইনামুল হক জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে কয়েক’শ পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরা আসামী ধরতে শেয়ালডাঙ্গা এলাকায় গেলে জামায়াত-শিবির সমর্থকরা মাইকিং করে কয়েক হাজার লোক জড়ো করে যৌথ বাহিনীর ওপর ককটেল, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। তারা যৌথ বাহিনীর সদস্যদেরকে চারিদিক থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। জামায়াত-শিবির সমর্থকরা রাস্তার ওপর গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে তারা ১৫০ রাউন্ড টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও গুলি বর্ষন করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ যেয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। বুধবার ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা শেয়ালডাঙ্গা এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে চলে আসে। এ ঘটনায় যৌথ বাহিনীর কোন সদস্য হতাহত হয়নি। তিনি বলেন, যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর কয়েক জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর বাড়িঘর ও দোকানে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে জামায়াত বিএনপির সন্ত্রাসীরা। জেলা জামায়াতের আমীর সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুল খালেক মন্ডল ও প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান হরতালের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জামায়াতের কর্মীকে হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার জেলা ব্যাপী অর্ধদিবস হরতাল পালন করা হবে। সাতক্ষীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার