ফেসবুকে জনপ্রিয় হচ্ছে ছবি-মন্তব্য

facebook
বাংলানিউজ ॥
কাজের চাপে নওরিনের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। মনটা একটু হালকা করতে ফেসবুকে চোখ রাখলো সে। বলা নেই, কওয়া নেই, হঠাৎ অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো নওরিন।

পাশের চেয়ারে বসা মৃত্তিকা ছুটে আসে, ফেসবুক পেজে চোখ রেখে হাসিতে যোগ দেয় সেও। ক্রমশই সেই হাসি সংক্রমিত হয় সারা কক্ষে।

নওরীন শনিবার রাতে একটি ছবি পোস্ট করেছিল ফেসবুকে। পরিচিতরা নানা মন্তব্য করছেন সেই ছবিতে। এর মধ্যে তার ছোটবেলার বন্ধু সাগর একটি ছবিতে-মন্তব্য দিয়েছে, যেখানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলছেন, ‘বে-সম্ভব সুন্দর ফটো!!! আগামীকাল আবার হরতাল…!।’

দেখে না হেসে পারেনি নওরীন। এমনই কোনো ছবি-মন্তব্যে কাজের চাপ দূর হয়ে যায় ‍অনেকেরই।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবি-মন্তব্যের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। ভালোবাসা, রাগ, প্রশংসা, তিরস্কার, বিদ্রুপ- কী নেই এসব ছবিতে। মনের যেকোনো ভাব প্রকাশ করা যায় সহজেই ছবি-মন্তব্যের মাধ্যমে।

সৃজনশীল এসব ছবিতে ফুটে ওঠে একেকজনের সৃজনশীল মানসিকতার পরিচয়ও।

কিশোর, যুবক থেকে শুরু করে মধ্য বয়সীরাও পরিচিত জনের ছবি অথবা স্ট্যাটাসে মজার সব ছবি-মন্তব্য করছেন। মজার লেখার সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে হাস্যকর ছবি, জনপ্রিয় ব্যক্তি, অভিনেতাসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছবিও।

রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম একটি ছবি পোস্ট করেন তার ওয়ালে।

তার বন্ধু মুক্তার আসফিক তাতে জুড়ে দেন একটি ছোট বাচ্চার ছবি, যেখানে বাচ্চাটি লুঙ্গি পরে পোজ দিচ্ছে, আর বলছে ‘দিন দিন আমার মতো হ্যান্ডসাম হইতাছস!’

ঠিক এভাবে অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফেসবুকে ছবি-মন্তব্য করছেন অধস্তন কর্মকর্তারাও। এতে কেউ বিরক্ত হচ্ছেন না, বা অপমানও বোধ করছেন না। বরং কাজের ফাঁকে তৈরি হচ্ছে আনন্দের উপলক্ষ। হৃদ্যতাও বাড়ছে নিজেদের মধ্যে।

আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, তিনটি মেয়েকে। তাতে লেখা, ‘ওমা! দেখ দেখ ছেলেটা দেখতে কি সুন্দর! ঠিক যেন রাজপুত্র!’

বলাই বাহুল্য, যেকোনো পুরুষের ছবিতে মন্তব্য হিসেবে এই ছবিটি জুড়ে দেওয়া যায় অনায়াসে।

আরেকটি ছবিতে জনপ্রিয় নাট্যাভিনেতা মোশাররফ করিম বলছেন, ‘আফা! আপটি কেডা?’, অন্য একটি ছবিতে বলছেন ‘কিচ্ছু কমু না’।

এসব ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে দেদারসে।

শুধু দেশি অভিনেতারাই ন‍ন, এসব ছবি-মন্তব্যে ব্যবহার করা হচ্ছে দেশের বাইরের জনপ্রিয় অভিনেতাদেরও। যেমন জনপ্রিয় অভিনেতা মি. বিন এর ছবি ব্যবহার করে লেখা হচ্ছে ‘পড়ে না চোখের পলক, কি তোমার রূপের ঝলক,’ এ ধরনের হাস্যকর বিভিন্ন মন্তব্য।

এছাড়া ফেসবুকে কারও ছবি অথবা স্ট্যাটাসে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সিরাম হইছে, দেখছো অবস্থাডা!!, হেব্বি লাগছে…., বে সম্ভব সুন্দর ফটো!!! আগামীকাল আবার হরতাল…!, প্যারাসিটামল ২ বেলা, ওয়াও মামা, বাসায় জানে, কি বললা??, খাড়া.. খাড়া.. বুইঝা লই জিনিসটা.., পোলাডা ম্যাকাপ করছে, কুপা সামছুসহ আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় ছবি-মন্তব্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

এভাবে যেকোনো কঠিন মন্তব্যও যখন মজার ছবির মাধ্যমে করা হচ্ছে তা আঁচ ফেলছে না সম্পর্কে। বরং সবাই বিষয়টি হালকাভাবে নিচ্ছেন, বিনোদন পাচ্ছেন।

এদিকে ফেসবুকের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধ কিংবা স্ব-নিয়ন্ত্রণ নেই। রয়েছে দ্রুত আপডেট করার সুবিধা। ফলে পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলের চেয়ে এই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমটি বেশ আগেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছে। সর্বশেষ অ্যালেক্সা রেটিং এ দেখা যায়, দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোর মধ্যে অনলাইন সংস্করণে শীর্ষে থাকা বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম থেকে ৩ ধাপ এগিয়ে ফেসবুক দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের অন্যান্য প্রভাবশালী দেশগুলোতেও ফেসবুকের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি। জনপ্রিয় এই যোগাযোগ মাধ্যমটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১১৫ কোটি ছাড়িয়েছে বেশ আগেই।

শেয়ার