পাকিস্তানের ওয়ানডে সিরিজ জয়

pak
বাংলানিউজ॥ সংযুক্ত আরব আমিরাতে হোম সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শূন্য হাতে শেষ করতে হয়েছিল। কিন্তু এবার তাদের মাঠে তার শোধ ভালোভাবে নিল পাকিস্তান। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ সমতায় শেষ করার পর এক ম্যাচ হাতে রেখে ওয়ানডে সিরিজ জিতল মিসবাহ উল হকের দল। বুধবার পোর্ট এলিজাবেথে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ১ রানের শ্বাসরুদ্ধকর জয় পেয়েছে সফরকারীরা। ২-০ ব্যবধানে সিরিজ দখলে নিয়ে হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্যে পাকিস্তান শেষ ম্যাচে নামবে ৩০ নভেম্বর।
প্রতিকূল আবহাওয়া থাকায় ম্যাচটি বিলম্বে শুরু হয়। ৪৫ ওভারে নির্ধারিত এই লড়াইয়ে আহমেদ শেহজাদের তৃতীয় ওয়ানডে শতক ও শোয়েব মাকসূদের সঙ্গে তার তৃতীয় উইকেটে ১২৪ রানের জুটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতল পাকিস্তান। শেহজাদের রান আউটের জন্য দায়ী উমর আকমলের ব্যাটে শেষ ১০ ওভারে ৮২ রান করে সফরকারীরা।
ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন প্রোটিয়া পেসার ডেল স্টেইন। বল হাতে ৯ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে দখলে নিয়েছেন ছয় উইকেট।
সফরকারীদের পক্ষে ওপেনার শেহজাদ ১১২ বলে আট চার ও দুই ছয়ে ১০২ রান করেন। তার সঙ্গে শতরানের জুটি গড়ার পথে মাকসূদ করেন ৪২ রান। ৩০ বলে চারটি চার ও দুই ছয়ে ৪২ রান করে শেষদিকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন আকমল। চারটি চারে সাজানো বিলাওয়াল ভাট্টির ২১ রানও গুরুত্বপূর্ণ।
লক্ষ্যে নেমে হাশিম আমলার সঙ্গে অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স ও কুইন্টন ডি ককের ব্যাটে জয়ের পথে ছিল প্রোটিয়ারা। শেষ দুই ওভারে তাদের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১১ রান। তখন ব্যাটিং প্রান্তে ছিলেন সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৩ রান দূরে থাকা আমলা, আর জেপি ডুমিনি। ব্যক্তিগত ঝুলিতে আর মাত্র একটি রান যোগ করে সাঈদ আজমলের ঘূর্ণিতে মোহাম্মদ হাফিজের তালুবন্দি হন আমলা। গুরুত্বপূর্ণ এই উইকেটটি হারানোর সঙ্গে ওই ওভারে মাত্র দুটি রান যোগ করতে সমর্থ হয় প্রোটিয়ারা।
শেষ ওভারে ৯ রানের প্রয়োজন পড়লে জুনাইদ খানের প্রথম বলে দৌড়ে এক রান নেন ডেভিড মিলার। দ্বিতীয় বলটি পুল করতে গিয়ে মিডউইকেটে দাঁড়িয়ে থাকা আনোয়ার আলীর হাতে ক্যাচ তুলে দেন ডুমিনি (১৫)। পরের বলটি কোনো রান নিতে পারেননি মিলার। চতুর্থ ও পঞ্চম বলে দুই রান নিতে সক্ষম হয় স্বাগতিকরা। শেষ বলে পাঁচ রানের প্রয়োজন হলে লেগ বাই থেকে আসে ৪ রান। আর সিরিজ জয়ের আনন্দে তখন মাতোয়ারা পাকিস্তান।
স্বাগতিকদের ব্যাটিং ইনিংসে আমলার ৯৮ রান ছাড়াও অবদান রেখেছে ভিলিয়ার্সের ৭৪ রান। ৪৭ রান আসে ডি ককের ব্যাটে।
জুনাইদ সবচেয়ে বেশি তিন উইকেট নেন। দুটি পান শহীদ আফ্রিদি। ম্যাচসেরা হয়েছেন শেহজাদ।

শেয়ার