পাঁচশ’ যাত্রীর জীবন বাঁচালেন কৃষক তাজুল!

Tajul

বাংলানিউজ ॥
প্রতিদিনের মতোই ভোরে নামাজ পড়ে ঘর থেকে কাজে বের হন তাজুল ইসলাম। বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়া রেলপথে গিয়ে দেখেন কারা যেন লাইন উপড়ে রেখেছে। এদিকে রেলপথের পশ্চিম দিক থেকে ভেসে আসছে চলন্ত ট্রেনের আওয়াজ।
কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। হঠাৎই বুদ্ধি এলো মাথায়। দৌঁড়ে বাড়ি গিয়ে স্ত্রীর লাল রঙের পেটিকোট (মহিলাদের পরনের কাপড়) একটি লাঠিতে ঝুলিয়ে বের হয়ে আসেন। রেলপথ ধরে দৌড়ে ছুটে যান পশ্চিম দিকে। কারণ, সেদিক থেকেই ছুটে আসছে যাত্রীবোঝাই ট্রেন।
ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছুদূর এগিয়ে গিয়ে নাড়তে থাকেন লাঠিতে বাঁধা পেটিকোট। লাল নিশান ও নিশানধারীর অভিব্যক্তি দেখে জরুরি ভিত্তিতে ট্রেন থামান চালক। বেঁচে যান চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মেঘনা এক্সপ্রেসের প্রায় ৫ শতাধিক যাত্রী।
একই সাথে অন্তত কয়েক কোটি টাকার তি থেকে রা পায় সরকার ও জনগণ।
কোনো নাটক বা গল্প-কল্পনা নয়, ১৮দলের ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টা অবরোধের (পরবর্তীতে আরও ১২ ঘণ্টা বাড়ানো হয়) ১৫তম ঘণ্টার একটি ঘটনা এটি।
বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের উয়ারুক ও মেহের স্টেশন এলাকায় রেললাইন উপড়ে ফেলে অবরোধকারীরা। এ খবর জানা ছিলো না রেল কর্তৃপরে। আর তাই ঠিকঠাক সময় অনুযায়ী চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায় মেঘনা এক্সপ্রেস।
শুধুমাত্র কৃষক তাজুল ইসলামের সর্তকতায় রা পেল ট্রেনটিতে থাকা প্রায় পাঁচ শতাধিক যাত্রীর জীবন।
তাজুল ইসলাম (৬০) পেশায় একজন কৃষক। তিনি শাহরাস্তি পৌরসভার উপলতা গ্রামের বাসিন্দা। স্ত্রী, ৪ ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার।
এত মানুষের জীবন আর সরকারের এত তি বাঁচিয়ে দিলেন, বিনিময়ে কী চান? জানতে চাইলে তাজুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, এ ঘটনার পর স্টেশন মাস্টার আমাকে পঞ্চাশ টাকা দিতে চেয়েছেন। আমি নেইনি। কারও কাছেই কিছু চাই না। সবাই দোয়া করলই আমি খুশি হবো।
ওই এলাকার বাসিন্দা আরিফ হোসেন ও সৈয়দ মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, তাজু ভাইয়ের বুদ্ধিতে রা পেল যাত্রীদের জীবন। যারা দেশে হরতাল অবরোধের নামে এসব নাশকতা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হোক।
এসময় এ দু’জনের কথায় সম্মতি দেন উপস্থিত অন্যান্যরাও।

শেয়ার